ছুটির দিন মানেই আরাম, স্বস্তি আর পরিবারের সঙ্গে কয়েকটি নির্ভেজাল মুহূর্ত কাটানোর সুযোগ। বিশেষ করে ছোট পরিবারে ছুটির দিন হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সময়। যেখানে ক্লান্তি ধুয়ে যায়, ব্যস্ততার দেয়াল ভেঙে পড়ে, আর প্রিয় মানুষদের সঙ্গে হাসি-আড্ডায় সাজে পুরো সকাল-দুপুর। কিন্তু কীভাবে এই ছোট্ট সময়টিকে আরও অর্থবহ করা যায়? কীভাবে একটি সাধারণ ছুটির সকাল হয়ে উঠবে স্মৃতিময়, তারই কিছু আলাপ থাকলো নিচে-
ধীরে ধীরে শুরু হোক দিন
ছুটির দিনের সেরা উপহার- ঘড়ির সঙ্গে যুদ্ধ নেই। তবু খুব দেরি না করে হালকা নাশতার টেবিলে জড়ো হওয়া ছোট পরিবারে এক দারুণ অভ্যাস। গরম পরোটা, ডিমভাজি, পাউরুটি-জ্যাম কিংবা ঘরে তৈরি খিচুড়ি; যাই হোক, একসঙ্গে বসে খাওয়া দিনের শুরুটা মোলায়েম করে দেয়।
ঘরেই ছোট্ট একটি ‘মুভি মর্নিং’
ছোট পরিবারগুলো চাইলে ছুটির দিনে ঘরকে মিনি থিয়েটার বানাতে পারে। বাচ্চাদের প্রিয় কার্টুন, বাবা-মায়ের পছন্দের পুরনো সিনেমা, কিংবা পরিবারের উপযোগী কোনও নতুন ছবি, সবাই মিলে একটি মুভি দেখা দিনটিকে অচেনা আনন্দ দেয়। সঙ্গে যদি থাকে পপকর্ন বা ডালপুরি, তাহলে তো কথাই নেই।
একসঙ্গে ঘর গোছানো, একটি মজার খেলা
পরিবারের সবাই মিলে ঘর গোছানোও হতে পারে আনন্দদায়ক। এটি শুধু কাজ নয়। এটি এক ধরনের টিমওয়ার্ক, যা ছোট পরিবারে বোঝাপড়া বাড়ায়। শিশুকে দায়িত্ব দিলে গর্ব জন্মায় তার মধ্যে; আর বাবা-মা পান সহযোগিতার অনুভূতি।
বিকেলে ছোট হাঁটাহাঁটি বা ছাদে চা-আড্ডা
ছুটির দিনের বিকেলটা ঘুরে আসে ধীরে ধীরে। এ সময়টা নিয়ে যেতে পারেন পাড়ার পার্কে, নদীর ধারে বা কাছের কোনও মাঠে হাঁটতে হাঁটতে। আর যদি বাইরে যেতে ইচ্ছে না হয়, তাহলে ছাদেই বানিয়ে ফেলুন চা-আড্ডার ছোট্ট আয়োজন। হালকা বাতাস, কিছু গল্প আর পরিবারের মিষ্টি হাসি; এই ছাদও হয়ে উঠবে আপনার রিসোর্ট।
রাতের খাবার, একসঙ্গে রান্না করার আনন্দ
ছোট পরিবারে রাতে একসঙ্গে রান্না করাও হতে পারে অসাধারণ বন্ডিং টাইম। কেউ সবজি কাটবে, কেউ সালাদ বানাবে, কেউ প্লেট সাজাবে; রান্নাঘর ভরে যাবে হাসির শব্দে। আর নিজের হাতে বানানো খাবার টেবিলে পরিবেশন করার মধ্যে থাকে এক ধরনের তৃপ্তি।
ডিজিটাল স্ক্রিন থেকে কিছুটা দূরে থাকা
ছুটির দিনে চেষ্টা করুন ফোন-ট্যাব কিছুটা দূরে রাখতে। কারণ, পরিবারকে উপহার দেওয়ার সবচেয়ে বড় জিনিস হলো সময়; আনমনে, মনোযোগে, উপস্থিতিতে।
দিন শেষে গল্পে গল্পে ছোট্ট পরিবার আরও কাছে
রাতে ঘুমানোর আগে আজকের দিন নিয়ে একটু গল্প হলে পুরো দিনটি যেন সম্পূর্ণতার সুন্দর বাঁক নেয়। শিশুরা বলে স্কুলের গল্প, বাবা-মা বলেন কিছু পুরনো স্মৃতি। আর এভাবেই ছোট্ট ছুটির দিনটিও ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে একটি বড় স্মৃতি।
রিপোর্টারের নাম 

























