ঢাকা ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

যুদ্ধবিরতি: ইরানের যুদ্ধবিরোধী নীতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘ইজেকশন সিট’?

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুতের বিশিষ্ট পাবলিক পলিসি ফেলো রামি জি. খৌরি। তিনি মনে করেন, এই যুদ্ধবিরতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো ধরনের পিছু হটা নয় বরং তাদের জীবন বাঁচানোর জন্য অত্যাবশ্যকীয় ইজেকশন সিটের বাটন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে খুরি বলেছেন, এই সংঘাত নতুন কিছু গতিশীল বাস্তবতা তুলে ধরেছে, যা দীর্ঘদিনের পশ্চিমা ও ইসরাইলি আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রচলিত অর্থে কোনো সমঝোতার পথ খোঁজার পরিবর্তে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে এমন একটি সংঘাত থেকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েছে যেখানে তারা তাদের যুদ্ধাভিযানের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। এই যুদ্ধে ব্যাপকভাবে বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে কেননা যুদ্ধে সাধারণ নিরীহ মানুষের সুরক্ষার বিষয়টি পুরোপুরি উপক্ষিত হয়েছে।

লেখক এই আলোচনা এবং এর আঞ্চলিক প্রভাব সম্পর্কে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনার ভিত্তিতে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে, যাকে তিনি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বৈধ অধিকার ও চাহিদা নিশ্চিত করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও বলেন, এই চুক্তি প্রথমবারের মতো দেখিয়েছে যে, একটি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ এককভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক শক্তিকে কার্যত চ্যালেঞ্জ করতে পেরেছে, যা ইরানের রাজনৈতিক দৃঢ়তা স্পষ্ট করেছে।

দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য খুরি যুক্তি দেন যে, ‘জায়নবাদ ও ইসরাইলের সম্প্রসারণবাদী লক্ষ্যকে প্রতিহত করতে’ এবং ‘মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে পশ্চিমাদের অবশ্যই ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান করতে হবে। তার মতে, এই ইস্যু সমাধান না হলে ইসরাইলের সম্প্রসারণবাদী নীতি এবং মার্কিন আধিপত্যবাদী কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরাইলি ট্যাংক ও সামরিক স্থাপনায় হিজবুল্লাহর জোরালো হামলা

যুদ্ধবিরতি: ইরানের যুদ্ধবিরোধী নীতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘ইজেকশন সিট’?

আপডেট সময় : ০৪:৩৯:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুতের বিশিষ্ট পাবলিক পলিসি ফেলো রামি জি. খৌরি। তিনি মনে করেন, এই যুদ্ধবিরতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো ধরনের পিছু হটা নয় বরং তাদের জীবন বাঁচানোর জন্য অত্যাবশ্যকীয় ইজেকশন সিটের বাটন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে খুরি বলেছেন, এই সংঘাত নতুন কিছু গতিশীল বাস্তবতা তুলে ধরেছে, যা দীর্ঘদিনের পশ্চিমা ও ইসরাইলি আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রচলিত অর্থে কোনো সমঝোতার পথ খোঁজার পরিবর্তে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে এমন একটি সংঘাত থেকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েছে যেখানে তারা তাদের যুদ্ধাভিযানের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। এই যুদ্ধে ব্যাপকভাবে বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে কেননা যুদ্ধে সাধারণ নিরীহ মানুষের সুরক্ষার বিষয়টি পুরোপুরি উপক্ষিত হয়েছে।

লেখক এই আলোচনা এবং এর আঞ্চলিক প্রভাব সম্পর্কে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনার ভিত্তিতে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে, যাকে তিনি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বৈধ অধিকার ও চাহিদা নিশ্চিত করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও বলেন, এই চুক্তি প্রথমবারের মতো দেখিয়েছে যে, একটি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ এককভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক শক্তিকে কার্যত চ্যালেঞ্জ করতে পেরেছে, যা ইরানের রাজনৈতিক দৃঢ়তা স্পষ্ট করেছে।

দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য খুরি যুক্তি দেন যে, ‘জায়নবাদ ও ইসরাইলের সম্প্রসারণবাদী লক্ষ্যকে প্রতিহত করতে’ এবং ‘মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে পশ্চিমাদের অবশ্যই ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান করতে হবে। তার মতে, এই ইস্যু সমাধান না হলে ইসরাইলের সম্প্রসারণবাদী নীতি এবং মার্কিন আধিপত্যবাদী কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে।