ঢাকা ১১:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

নেপালের শিক্ষাঙ্গন থেকে ছাত্র রাজনীতি বিদায়: এক নতুন বিপ্লবের সূচনা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪২:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থায় এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের ডাক দিয়েছে নেপাল। দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ দায়িত্ব নেওয়ার পরেই শিক্ষা খাতকে আমূল বদলে দিতে ১০০ দফার একটি সংস্কার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। এই উদ্যোগের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে রাজনৈতিক দল সমর্থিত ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধ করা। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং দলীয় প্রভাবমুক্ত ক্যাম্পাস গড়তে এই সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক সংগঠনের বিকল্প হিসেবে সেখানে ‘স্টুডেন্ট কাউন্সিল’ গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশে সহায়তা করবে।

শিক্ষার মানোন্নয়নে নেপাল সরকার পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও মানসিক বিকাশের ওপর ভিত্তি করে বিকল্প মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা হবে। এতে শিশুদের ওপর থেকে পরীক্ষার অতিরিক্ত চাপ কমবে এবং পড়াশোনা আরও আনন্দদায়ক হয়ে উঠবে। এছাড়া উচ্চশিক্ষায় সেশনজট দূর করতে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষাকে গবেষণামুখী এবং আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ যেখানে এখনও ক্যাম্পাস রাজনীতি ও সেশনজটের কবলে ধুঁকছে, সেখানে নেপালের এই উদ্যোগ একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে গৃহীত এই পরিকল্পনা দেশটির তরুণ প্রজন্মের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে বিপর্যস্ত জনজীবন: পাম্পে পাম্পে হাহাকার ও দীর্ঘ প্রতীক্ষা

নেপালের শিক্ষাঙ্গন থেকে ছাত্র রাজনীতি বিদায়: এক নতুন বিপ্লবের সূচনা

আপডেট সময় : ১২:৪২:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থায় এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের ডাক দিয়েছে নেপাল। দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ দায়িত্ব নেওয়ার পরেই শিক্ষা খাতকে আমূল বদলে দিতে ১০০ দফার একটি সংস্কার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। এই উদ্যোগের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে রাজনৈতিক দল সমর্থিত ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধ করা। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং দলীয় প্রভাবমুক্ত ক্যাম্পাস গড়তে এই সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক সংগঠনের বিকল্প হিসেবে সেখানে ‘স্টুডেন্ট কাউন্সিল’ গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশে সহায়তা করবে।

শিক্ষার মানোন্নয়নে নেপাল সরকার পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও মানসিক বিকাশের ওপর ভিত্তি করে বিকল্প মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা হবে। এতে শিশুদের ওপর থেকে পরীক্ষার অতিরিক্ত চাপ কমবে এবং পড়াশোনা আরও আনন্দদায়ক হয়ে উঠবে। এছাড়া উচ্চশিক্ষায় সেশনজট দূর করতে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষাকে গবেষণামুখী এবং আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ যেখানে এখনও ক্যাম্পাস রাজনীতি ও সেশনজটের কবলে ধুঁকছে, সেখানে নেপালের এই উদ্যোগ একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে গৃহীত এই পরিকল্পনা দেশটির তরুণ প্রজন্মের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।