ঢাকা ১২:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

শিক্ষকের শূন্যপদ ৬০ হাজার ছাড়ালো: এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান

দেশে এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজগুলোতে শিক্ষকের শূন্যপদের সংখ্যা ৬০ হাজার ২৯৫টিতে পৌঁছেছে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জাতীয় সংসদে এই তথ্য জানিয়েছেন। বুধবার কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, সরকারি কলেজগুলোতে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারভুক্ত প্রভাষক পদে ৬৫৬টি এবং সদ্য সরকারিকৃত কলেজগুলোতে নন-ক্যাডার প্রভাষক পদে ২ হাজার ৪১০টি পদ খালি রয়েছে। এছাড়া, বেসরকারি এমপিওভুক্ত কলেজগুলোতে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের ১ হাজার ৩৪৯টি পদ শূন্য আছে। তবে, শিক্ষক নিয়োগের জন্য ১ হাজার ৩৪৪টি শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শূন্যপদগুলো দ্রুত পূরণের জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকারি কলেজগুলোতে প্রভাষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। অন্যদিকে, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করতে এনটিআরসিএর মাধ্যমে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধানের ১১ হাজার ১৫১টি শূন্য পদ পূরণের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী বেসরকারি কলেজ সরকারিকরণ বা জাতীয়করণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয় বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। জাতীয়করণকৃত কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি সংক্রান্ত শর্তাবলী পর্যালোচনা এবং প্রযোজ্য বিধি-বিধান অনুসরণ করে তাদের চাকরি জাতীয়করণ করা হয়। তবে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ একটি দীর্ঘমেয়াদি ও নীতিনির্ধারণী বিষয়, যা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একক এখতিয়ারভুক্ত নয়। এটি সরকারের সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা, বিদ্যমান নীতিমালা এবং জাতীয় বাজেটের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

বর্তমানে দেশে ৩৪ হাজার ১২৯টি এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৯৯৪ জন শিক্ষক এবং ২ লাখ ৬ হাজার ৬৯৯ জন কর্মচারী কর্মরত আছেন। সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় লিজেন্ডারি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলেকে শেষ বিদায়

শিক্ষকের শূন্যপদ ৬০ হাজার ছাড়ালো: এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান

আপডেট সময় : ০২:৪৫:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

দেশে এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজগুলোতে শিক্ষকের শূন্যপদের সংখ্যা ৬০ হাজার ২৯৫টিতে পৌঁছেছে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জাতীয় সংসদে এই তথ্য জানিয়েছেন। বুধবার কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, সরকারি কলেজগুলোতে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারভুক্ত প্রভাষক পদে ৬৫৬টি এবং সদ্য সরকারিকৃত কলেজগুলোতে নন-ক্যাডার প্রভাষক পদে ২ হাজার ৪১০টি পদ খালি রয়েছে। এছাড়া, বেসরকারি এমপিওভুক্ত কলেজগুলোতে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের ১ হাজার ৩৪৯টি পদ শূন্য আছে। তবে, শিক্ষক নিয়োগের জন্য ১ হাজার ৩৪৪টি শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শূন্যপদগুলো দ্রুত পূরণের জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকারি কলেজগুলোতে প্রভাষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। অন্যদিকে, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করতে এনটিআরসিএর মাধ্যমে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধানের ১১ হাজার ১৫১টি শূন্য পদ পূরণের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী বেসরকারি কলেজ সরকারিকরণ বা জাতীয়করণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয় বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। জাতীয়করণকৃত কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি সংক্রান্ত শর্তাবলী পর্যালোচনা এবং প্রযোজ্য বিধি-বিধান অনুসরণ করে তাদের চাকরি জাতীয়করণ করা হয়। তবে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ একটি দীর্ঘমেয়াদি ও নীতিনির্ধারণী বিষয়, যা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একক এখতিয়ারভুক্ত নয়। এটি সরকারের সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা, বিদ্যমান নীতিমালা এবং জাতীয় বাজেটের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

বর্তমানে দেশে ৩৪ হাজার ১২৯টি এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৯৯৪ জন শিক্ষক এবং ২ লাখ ৬ হাজার ৬৯৯ জন কর্মচারী কর্মরত আছেন। সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।