ঢাকা ০৩:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীর চর দখল ও বিক্রির অভিযোগ: প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নীরবতা

বরিশালের বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীতে জেগে ওঠা চর প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে দখল এবং বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বানারীপাড়া ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটছে। অভিযোগ রয়েছে, চক্রটি শুধু চর বিক্রিই করছে না, বরং একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিজেদের লোক দিয়ে একাধিক দোকানঘরও নির্মাণ করেছে। প্রকাশ্যে চর দখল করে বিক্রি ও দোকানঘর নির্মাণের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রিয়াজ উদ্দীন মৃধা। তার সঙ্গে আছেন তার বড় ভাই মাসুম মৃধা, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল আলম রিপন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর খান, পৌর বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মো. শাহে আলম বেপারী, বানারীপাড়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মোল্লা, জন মোল্লা, দিপু মাঝিসহ আরও অনেকে। তবে, এই বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিএমএ মুনীব দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে বানারীপাড়া ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায় সন্ধ্যা নদীতে জেগে ওঠা চরটি বিএনপির সমর্থক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিজনের কাছ থেকে এক থেকে দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রিয়াজ উদ্দীন মৃধা ওই জমিতে নিজের জন্য পাঁচটি ঘরও তৈরি করেছেন। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, কলেজ জীবন শেষে মো. রিয়াজ উদ্দীন মৃধা একটি এনজিওতে মাঠকর্মী হিসেবে যোগ দেন এবং সেখানে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়, যার ফলে তিনি গ্রেপ্তার হয়ে জেলও খেটেছেন।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রিয়াজ উদ্দীন মৃধা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয় দেওয়া, হাট-বাজার, বালুমহল, খাস জমি দখল এবং টেন্ডারবাজির মতো বিভিন্ন সেক্টরে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। তিনি এসব কাজ তার সহযোগীদের নিয়েই করতেন বলে বিএনপির একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন।

তবে, চরের জমি বিক্রি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতারা। পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শফিকুল আলম রিপন বলেছেন, দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ ফেরিঘাট এলাকার চর দখল করেছে। তিনি নিজে কোনো চরের জমির পজিশন বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত নন, বরং তিনি দখলদারদের বাধা দিয়েছেন। পৌর বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ম…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রযুক্তির বিস্ময় আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র: যেভাবে আকাশপথে নিখুঁত লক্ষ্যভেদ করে এই মারণাস্ত্র

বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীর চর দখল ও বিক্রির অভিযোগ: প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নীরবতা

আপডেট সময় : ১০:০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

বরিশালের বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীতে জেগে ওঠা চর প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে দখল এবং বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বানারীপাড়া ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটছে। অভিযোগ রয়েছে, চক্রটি শুধু চর বিক্রিই করছে না, বরং একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিজেদের লোক দিয়ে একাধিক দোকানঘরও নির্মাণ করেছে। প্রকাশ্যে চর দখল করে বিক্রি ও দোকানঘর নির্মাণের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রিয়াজ উদ্দীন মৃধা। তার সঙ্গে আছেন তার বড় ভাই মাসুম মৃধা, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল আলম রিপন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর খান, পৌর বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মো. শাহে আলম বেপারী, বানারীপাড়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মোল্লা, জন মোল্লা, দিপু মাঝিসহ আরও অনেকে। তবে, এই বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিএমএ মুনীব দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে বানারীপাড়া ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায় সন্ধ্যা নদীতে জেগে ওঠা চরটি বিএনপির সমর্থক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিজনের কাছ থেকে এক থেকে দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রিয়াজ উদ্দীন মৃধা ওই জমিতে নিজের জন্য পাঁচটি ঘরও তৈরি করেছেন। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, কলেজ জীবন শেষে মো. রিয়াজ উদ্দীন মৃধা একটি এনজিওতে মাঠকর্মী হিসেবে যোগ দেন এবং সেখানে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়, যার ফলে তিনি গ্রেপ্তার হয়ে জেলও খেটেছেন।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রিয়াজ উদ্দীন মৃধা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয় দেওয়া, হাট-বাজার, বালুমহল, খাস জমি দখল এবং টেন্ডারবাজির মতো বিভিন্ন সেক্টরে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। তিনি এসব কাজ তার সহযোগীদের নিয়েই করতেন বলে বিএনপির একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন।

তবে, চরের জমি বিক্রি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতারা। পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শফিকুল আলম রিপন বলেছেন, দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ ফেরিঘাট এলাকার চর দখল করেছে। তিনি নিজে কোনো চরের জমির পজিশন বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত নন, বরং তিনি দখলদারদের বাধা দিয়েছেন। পৌর বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ম…