ঢাকা ০৮:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

ফেনীতে তরমুজ চাষিদের মাথায় হাত: অসময়ের বৃষ্টি ও পরিবহন সিন্ডিকেটে শতকোটি টাকার মূলধন ঝুঁকিতে

ফেনীর তরমুজ চাষিরা অসময়ের বৃষ্টি, জ্বালানি তেলের সংকটে পরিবহন সিন্ডিকেট এবং বাজার দরের পতনের কারণে বিপুল পরিমাণ মূলধন হারাতে বসেছেন। চলতি মৌসুমে তরমুজের আবাদ বাড়লেও ফলন কমে গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের চরম হতাশায় ফেলেছে এবং শতকোটি টাকার মূলধন ঝুঁকিতে পড়েছে।

জেলার উপকূলীয় অঞ্চল সোনাগাজী উপজেলার দক্ষিণ চর চান্দিনায় ৯০ একর জমিতে তরমুজ চাষে প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন আবু সায়িদ রুবেলসহ ১০ জন কৃষক। সমবায় পদ্ধতিতে চাষ করা তরমুজের বাম্পার ফলন হলেও পাইকারের অভাবে ফসল মাঠেই পড়ে আছে। পরিশ্রমের ফসল নষ্ট হচ্ছে, এমনকি গবাদি পশুকে খাওয়ানো হচ্ছে। স্বপ্নভঙ্গের ভারে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

চরাঞ্চলের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেতে তরমুজের আকার ছোট, ফলের রং নষ্ট হয়ে গেছে এবং কোথাও কোথাও বৃষ্টির কারণে নিচের অংশে পচন ধরেছে। তেলের দাম বাড়ায় পরিবহনে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। শ্রমিকের মজুরিও প্রতিদিন ১শ’ টাকা করে বেড়েছে।

তরমুজ চাষিরা জানান, প্রতি এক কানি (১২০ শতক) জমিতে তরমুজ চাষে এবার গড়ে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু বাজারে সেই খরচের তিন ভাগের এক ভাগও উঠছে না। আগে একটি বড় ট্রাক ভর্তি তরমুজ বিক্রি করে ৩ লাখ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পাওয়া যেত। এবার দুই দিন ধরে পাইকারদের কাছে খুচরা বিক্রি করেও ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার বেশি পাওয়া যাচ্ছে না।

এর সঙ্গে বাড়তি পরিবহন খরচ, বিক্রির ওপর ৬ থেকে ৯ শতাংশ আড়ত কমিশন, অতিরিক্ত শ্রমিক ব্যয়, ভাইরাসের কারণে বারবার সেচ, সার ও বালাইনাশক ব্যবহারের খরচ বাদ দিলে প্রতি গাড়ি থেকে হাতে থাকছে মাত্র ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। ফলে মূলধন তুলতেও পারছেন না চাষিরা, যা তাদের দিশেহারা করে তুলেছে।

চর চান্দিয়া এলাকার তরমুজ চাষি রাজু আহমেদ বলেন, এমন লোকসান জীবনে আর কখনও হয়নি। উৎপাদিত ফসল চোখের সামনে নষ্ট হচ্ছে, বাজারে নিয়ে গেলেও দাম পাওয়া যাচ্ছে না। আরেক চাষি কবির আহম্মদ বলেন, ফল পুষ্ট হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে দরপতনের কবলে পড়েছেন, লাভ তো দূরের কথা, মূলধন ওঠানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর জেলায় ৭৭৪ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হলেও এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৯৯ হেক্টরে। এর মধ্যে সোনাগাজীতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৫০ হেক্টর, কিন্তু আবাদ হয়েছে ১ হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

ফেনীতে তরমুজ চাষিদের মাথায় হাত: অসময়ের বৃষ্টি ও পরিবহন সিন্ডিকেটে শতকোটি টাকার মূলধন ঝুঁকিতে

আপডেট সময় : ০৫:৫৫:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

ফেনীর তরমুজ চাষিরা অসময়ের বৃষ্টি, জ্বালানি তেলের সংকটে পরিবহন সিন্ডিকেট এবং বাজার দরের পতনের কারণে বিপুল পরিমাণ মূলধন হারাতে বসেছেন। চলতি মৌসুমে তরমুজের আবাদ বাড়লেও ফলন কমে গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের চরম হতাশায় ফেলেছে এবং শতকোটি টাকার মূলধন ঝুঁকিতে পড়েছে।

জেলার উপকূলীয় অঞ্চল সোনাগাজী উপজেলার দক্ষিণ চর চান্দিনায় ৯০ একর জমিতে তরমুজ চাষে প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন আবু সায়িদ রুবেলসহ ১০ জন কৃষক। সমবায় পদ্ধতিতে চাষ করা তরমুজের বাম্পার ফলন হলেও পাইকারের অভাবে ফসল মাঠেই পড়ে আছে। পরিশ্রমের ফসল নষ্ট হচ্ছে, এমনকি গবাদি পশুকে খাওয়ানো হচ্ছে। স্বপ্নভঙ্গের ভারে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

চরাঞ্চলের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেতে তরমুজের আকার ছোট, ফলের রং নষ্ট হয়ে গেছে এবং কোথাও কোথাও বৃষ্টির কারণে নিচের অংশে পচন ধরেছে। তেলের দাম বাড়ায় পরিবহনে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। শ্রমিকের মজুরিও প্রতিদিন ১শ’ টাকা করে বেড়েছে।

তরমুজ চাষিরা জানান, প্রতি এক কানি (১২০ শতক) জমিতে তরমুজ চাষে এবার গড়ে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু বাজারে সেই খরচের তিন ভাগের এক ভাগও উঠছে না। আগে একটি বড় ট্রাক ভর্তি তরমুজ বিক্রি করে ৩ লাখ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পাওয়া যেত। এবার দুই দিন ধরে পাইকারদের কাছে খুচরা বিক্রি করেও ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার বেশি পাওয়া যাচ্ছে না।

এর সঙ্গে বাড়তি পরিবহন খরচ, বিক্রির ওপর ৬ থেকে ৯ শতাংশ আড়ত কমিশন, অতিরিক্ত শ্রমিক ব্যয়, ভাইরাসের কারণে বারবার সেচ, সার ও বালাইনাশক ব্যবহারের খরচ বাদ দিলে প্রতি গাড়ি থেকে হাতে থাকছে মাত্র ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। ফলে মূলধন তুলতেও পারছেন না চাষিরা, যা তাদের দিশেহারা করে তুলেছে।

চর চান্দিয়া এলাকার তরমুজ চাষি রাজু আহমেদ বলেন, এমন লোকসান জীবনে আর কখনও হয়নি। উৎপাদিত ফসল চোখের সামনে নষ্ট হচ্ছে, বাজারে নিয়ে গেলেও দাম পাওয়া যাচ্ছে না। আরেক চাষি কবির আহম্মদ বলেন, ফল পুষ্ট হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে দরপতনের কবলে পড়েছেন, লাভ তো দূরের কথা, মূলধন ওঠানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর জেলায় ৭৭৪ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হলেও এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৯৯ হেক্টরে। এর মধ্যে সোনাগাজীতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৫০ হেক্টর, কিন্তু আবাদ হয়েছে ১ হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে।