আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীরা পৃথিবীর বাইরে এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছেন। তারা এমন সব দৃশ্য দেখেছেন যা পূর্বে কোনো মানুষ, এমনকি অ্যাপোলো অভিযানের নভোচারীরাও দেখেননি বলে জানিয়েছেন। এই ঐতিহাসিক অভিযানের কমান্ডার রিড উইসম্যান যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক প্রশ্নের জবাবে এই বিস্ময়কর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন জানতে চেয়েছিলেন, “এই ঐতিহাসিক দিনের সবচেয়ে অবিস্মরণীয় অংশ কোনটি?”, তখন উইসম্যান বলেন, “আমরা এমন সব দৃশ্য দেখেছি, যা আগে কোনো মানুষ দেখেনি—এমনকি অ্যাপোলো অভিযানের সময়ও নয়। আমাদের জন্য তা ছিল সত্যিই বিস্ময়কর।”
পৃথিবীর বাইরে এখন পর্যন্ত মানুষের সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে যাওয়ার নতুন রেকর্ড গড়েছেন আর্টেমিস-২ এর নভোচারীরা। সোমবার গ্রিনিচ মান মন্দিরের সময় বিকেল তিন টা আটান্ন মিনিটে চার নভোচারী চাঁদের পেছন দিকে সবচেয়ে দূরবর্তী জায়গায় পৌঁছান। সেই মুহূর্তে তারা পৃথিবী থেকে প্রায় চার লাখ ছয় হাজার সাত’শ একাত্তর কিলোমিটার বা দুই লক্ষ বাহান্ন হাজার সাত’শ ছাপ্পান্ন মাইল দূরে অবস্থান করছিলেন বলে জানিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। এর আগে মহাকাশে এত দূরে কোনো মানুষ যেতে পারেনি। নতুন এই রেকর্ড গড়ার সময় পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন নভোচারীরা। প্রায় ৪০ মিনিট যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর পুনরায় সংযোগ স্থাপিত হয়।
পুনরায় সংযোগ স্থাপিত হওয়ার পর নভোচারীদের অভিনন্দন জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তিনি জানতে চান, পৃথিবী থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল। জবাবে নভোচারী ভিক্টর গ্লোভার বলেন, সংযোগ চলে যাওয়ার পর তিনি “কিছুক্ষণ প্রার্থনা” করেছিলেন। তবে তখনও চাঁদের দূরবর্তী অংশের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও প্রাপ্ত তথ্যগুলো লিপিবদ্ধ করার কাজ চলছিল বলে জানান তিনি। গ্লোভার ট্রাম্পকে বলেন, “আমরা এখানে বেশ ব্যস্ত ছিলাম এবং কঠোর পরিশ্রম করছিলাম। আর বলতেই হয়, ব্যাপারটা আসলে বেশ ভালোই ছিল।”
উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৭০ সালের এপ্রিলে নাসার অ্যাপোলো-১৩ অভিযানে অংশ নেওয়া নভোচারীরা পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী জায়গায় ভ্রমণ করেছিলেন। সেই সময় তারা পৃথিবী থেকে প্রায় চার লক্ষ এক’শ এক কিলোমিটার বা প্রায় দুই লক্ষ আটচল্লিশ হাজার ছয়’শ পঞ্চান্ন মাইল দূরে ভ্রমণ করেছিলেন। এতদিন সেটাই ছিল পৃথিবী থেকে মহাকাশের সবচেয়ে দূরবর্তী জায়গায় মানুষের যাওয়ার রেকর্ড। সোমবার আর্টেমিস-২ এর চার নভোচারী সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন।
রিপোর্টারের নাম 
























