কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে নিজেদের কঠোর অবস্থানের কথা পুনরায় ব্যক্ত করেছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এই জলপথের অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না। ৪৫ দিনের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে প্রণালিটি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব সম্প্রতি নাকচ করে দিয়েছে দেশটি।
ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র টেকসই শান্তির পরিবর্তে সাময়িক চুক্তিতে বেশি আগ্রহী বলে মনে করছে তেহরান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইরানি কর্মকর্তা জানান, ওয়াশিংটন স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য প্রস্তুত নয়, তাই কোনো সাময়িক সমঝোতার ভিত্তিতে তারা এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ উন্মুক্ত করবেন না। এদিকে, ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলার বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া আলটিমেটামের সময়সীমা নিয়ে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা। তবে ইরান জানিয়েছে, কোনো হুমকির মুখে তারা তাদের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনবে না।
সংঘাতের ৩৮তম দিনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা আরও বেড়েছে। ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা প্রধান মাজিদ খাদেমি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে বলেছে, এটি আইআরজিসির জন্য একটি বড় ধাক্কা। ইরানি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামলায় দেশটিতে অন্তত ৩৪ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয়টি শিশু রয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চারজনের প্রাণহানি ঘটেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই পরিস্থিতির নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, আলোচনার আড়ালে যুদ্ধাপরাধ এবং আলটিমেটাম দেওয়া অগ্রহণযোগ্য। ইরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর এবং প্রতিটি হামলার সমুচিত জবাব দেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালির অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
রিপোর্টারের নাম 
























