ঢাকা ০৬:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

খামেনির উত্তরসূরি কে? ইরানের পারমাণবিক আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে ধোঁয়াশা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৩:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির প্রয়াণের পর দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এবং এর আলোচনার নেতৃত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি খামেনির মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনার মূল দিকনির্দেশক ছিলেন তিনি। তার অনুপস্থিতিতে এখন কে বা কারা এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার হাল ধরবেন, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে জল্পনা তুঙ্গে।

জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল যুদ্ধ শুরুর মাত্র দুদিন আগে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশটির ওপর দীর্ঘকাল ধরে কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। যদিও খামেনি সরাসরি কোনো বৈঠকে অংশ নিতেন না, তবে ইরানের প্রতিনিধি দল প্রতিটি পদক্ষেপে তার নির্দেশনার ওপর নির্ভর করত। তার প্রস্থান এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় একটি বড় শূন্যস্থান তৈরি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, খামেনির পুত্র মোজতবা খামেনি বর্তমানে পর্দার আড়ালে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। জনসমক্ষে তাকে খুব একটা দেখা না গেলেও তার বিভিন্ন বার্তার মাধ্যমে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, তিনি তার পিতার মতোই পশ্চিমা-বিরোধী কঠোর অবস্থান বজায় রাখছেন। তবে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও এমন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম ঘোষণা করেনি, যিনি মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফকে বেশ সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। আরাঘচি এর আগেও একাধিকবার পারমাণবিক আলোচনায় সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে, গালিবফকে সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব উপস্থিতির মাধ্যমে নিজের প্রভাব জানান দিতে দেখা গেছে।

ইরানের শাসনব্যবস্থায় ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী বা আইআরজিসি একটি শক্তিশালী সমান্তরাল শক্তি হিসেবে কাজ করে, বিশেষ করে যুদ্ধকালীন সময়ে তাদের প্রভাব আরও বৃদ্ধি পায়। সাম্প্রতিক যুদ্ধে আইআরজিসির বেশ কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডার নিহত হলেও ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, প্রতিটি পদের জন্য বিকল্প নেতৃত্ব আগে থেকেই নির্ধারিত রয়েছে। তবে পারমাণবিক আলোচনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এখন একাধিক প্রভাবশালী মহলের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মুন্সীগঞ্জ বার নির্বাচনে ১১ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

খামেনির উত্তরসূরি কে? ইরানের পারমাণবিক আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে ধোঁয়াশা

আপডেট সময় : ০৬:৪৩:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির প্রয়াণের পর দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এবং এর আলোচনার নেতৃত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি খামেনির মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনার মূল দিকনির্দেশক ছিলেন তিনি। তার অনুপস্থিতিতে এখন কে বা কারা এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার হাল ধরবেন, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে জল্পনা তুঙ্গে।

জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল যুদ্ধ শুরুর মাত্র দুদিন আগে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশটির ওপর দীর্ঘকাল ধরে কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। যদিও খামেনি সরাসরি কোনো বৈঠকে অংশ নিতেন না, তবে ইরানের প্রতিনিধি দল প্রতিটি পদক্ষেপে তার নির্দেশনার ওপর নির্ভর করত। তার প্রস্থান এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় একটি বড় শূন্যস্থান তৈরি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, খামেনির পুত্র মোজতবা খামেনি বর্তমানে পর্দার আড়ালে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। জনসমক্ষে তাকে খুব একটা দেখা না গেলেও তার বিভিন্ন বার্তার মাধ্যমে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, তিনি তার পিতার মতোই পশ্চিমা-বিরোধী কঠোর অবস্থান বজায় রাখছেন। তবে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও এমন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম ঘোষণা করেনি, যিনি মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফকে বেশ সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। আরাঘচি এর আগেও একাধিকবার পারমাণবিক আলোচনায় সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে, গালিবফকে সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব উপস্থিতির মাধ্যমে নিজের প্রভাব জানান দিতে দেখা গেছে।

ইরানের শাসনব্যবস্থায় ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী বা আইআরজিসি একটি শক্তিশালী সমান্তরাল শক্তি হিসেবে কাজ করে, বিশেষ করে যুদ্ধকালীন সময়ে তাদের প্রভাব আরও বৃদ্ধি পায়। সাম্প্রতিক যুদ্ধে আইআরজিসির বেশ কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডার নিহত হলেও ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, প্রতিটি পদের জন্য বিকল্প নেতৃত্ব আগে থেকেই নির্ধারিত রয়েছে। তবে পারমাণবিক আলোচনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এখন একাধিক প্রভাবশালী মহলের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।