ঢাকা ০৩:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ত্রয়োদশ সংসদে অস্থিরতার ছায়া: রাজপথ ও আইনসভার দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত রাজনীতি

একটি রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে সূচিত হয়েছে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। তবে নতুন সরকারের যাত্রালগ্ন থেকেই সংসদের ভেতরে ও বাইরে বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভাজনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। গত ১২ মার্চ শুরু হওয়া উদ্বোধনী অধিবেশনের পর সংক্ষিপ্ত বিরতি দিয়ে পুনরায় কার্যক্রম শুরু হলেও মাত্র কয়েক কার্যদিবসেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আলোচনার টেবিল।

সংসদের ভেতরে আলোচনার চেয়ে এখন রাজপথের আন্দোলন নিয়ে বেশি সরব হয়ে উঠেছে বিরোধী দল। বিশেষ করে ‘জুলাই সনদ’ ও গণভোটের দাবিতে বিরোধী দলের অনড় অবস্থান এবং বারবার সংসদ থেকে ওয়াকআউট করার ঘটনা নতুন সংকটের জন্ম দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ পাসের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। তাদের দাবি, সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থেকে বিচ্যুত হচ্ছে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংসদ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে, সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে যে, তারা সংস্কারের পথেই রয়েছে এবং সংসদে সুচিন্তিতভাবে তাদের ভূমিকা পালন করছে। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বাহাত্তরের সংবিধান সংশোধন বা বাতিলের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সংবিধান সংক্রান্ত পুরোনো একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা বিশ্লেষণ। সব মিলিয়ে, নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার শুরুতে সরকারি ও বিরোধী দলের এই মুখোমুখি অবস্থান দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার: বাড়ছে জালিয়াতি ও সাইবার অপরাধের ঝুঁকি

ত্রয়োদশ সংসদে অস্থিরতার ছায়া: রাজপথ ও আইনসভার দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত রাজনীতি

আপডেট সময় : ০৯:৫৯:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

একটি রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে সূচিত হয়েছে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। তবে নতুন সরকারের যাত্রালগ্ন থেকেই সংসদের ভেতরে ও বাইরে বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভাজনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। গত ১২ মার্চ শুরু হওয়া উদ্বোধনী অধিবেশনের পর সংক্ষিপ্ত বিরতি দিয়ে পুনরায় কার্যক্রম শুরু হলেও মাত্র কয়েক কার্যদিবসেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আলোচনার টেবিল।

সংসদের ভেতরে আলোচনার চেয়ে এখন রাজপথের আন্দোলন নিয়ে বেশি সরব হয়ে উঠেছে বিরোধী দল। বিশেষ করে ‘জুলাই সনদ’ ও গণভোটের দাবিতে বিরোধী দলের অনড় অবস্থান এবং বারবার সংসদ থেকে ওয়াকআউট করার ঘটনা নতুন সংকটের জন্ম দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ পাসের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। তাদের দাবি, সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থেকে বিচ্যুত হচ্ছে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংসদ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে, সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে যে, তারা সংস্কারের পথেই রয়েছে এবং সংসদে সুচিন্তিতভাবে তাদের ভূমিকা পালন করছে। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বাহাত্তরের সংবিধান সংশোধন বা বাতিলের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সংবিধান সংক্রান্ত পুরোনো একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা বিশ্লেষণ। সব মিলিয়ে, নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার শুরুতে সরকারি ও বিরোধী দলের এই মুখোমুখি অবস্থান দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।