দীর্ঘ আট বছর পর সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার বিচার নতুন করে আশার আলো দেখছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাংলাদেশ পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর ঢাকা শাখার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলামকে কুমিল্লার আদালতে তলব করা হয়েছে। তনুর পরিবার এই নতুন পদক্ষেপের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা করছে।
মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে সম্প্রতি কুমিল্লার সংশ্লিষ্ট আদালত পিবিআইকে একটি চিঠি পাঠান। এর প্রেক্ষিতে, তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম সোমবার (৬ এপ্রিল) আদালতে হাজির হয়ে মামলার তদন্ত সম্পর্কিত লিখিত ব্যাখ্যা দেবেন বলে জানা গেছে। রবিবার রাতে তনুর পরিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সর্বশেষ গত বছরের ৭ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তা তনুর নিজ বাড়ি ও কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিলেন। তিনি মামলার বাদী তনুর বাবা, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেনের সঙ্গেও দেখা করে কথা বলেন।
মো. তরিকুল ইসলাম এই মামলার ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা। তিনি জানিয়েছেন, আদালত মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। তবে, এখনই মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দাখিল করা হচ্ছে না। তিনি আদালতে মামলার তদন্তের কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরবেন বলে জানান। এই মুহূর্তে এর বেশি কিছু মন্তব্য করতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরের একটি বাসা থেকে ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী তনু টিউশনি পড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হন। রাতে অনেক খোঁজাখুঁজির পর সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার লাশ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। শুরুতে থানা-পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত করেও এই মামলার কোনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি।
সবশেষে, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি সিআইডি থেকে পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করা হয়। গত প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে মামলার ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।
রিপোর্টারের নাম 
























