ঢাকা ০১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএনডিপি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ: রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা

বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রোববার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে তাঁর বেইলি রোডের সরকারি বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। সাক্ষাৎকালে আইনশৃঙ্খলা, পুলিশ সংস্কার, মানবাধিকার কমিশন গঠন, গুম প্রতিরোধ এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। ইউএনডিপি-র আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তাঁর নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ইউএনডিপি-র অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

পুলিশ সংস্কারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পুলিশকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য সরকার ধারাবাহিক সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই সংস্কার, পুনর্গঠন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইউএনডিপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

ইউএনডিপি-র আবাসিক প্রতিনিধি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনে সংস্থার সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, প্রায় ১৫-১৭ বছর ধরে সংস্থাটি কমিশনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। খসড়া অধ্যাদেশ প্রণয়নে আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম অনুশীলনগুলো অন্তর্ভুক্ত করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশের সঙ্গে স্বাধীন পুলিশ কমিশনের নিবিড় সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং জানান যে, প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হওয়ার পর এটি সংসদে বিল আকারে পেশ করা হবে। একই সঙ্গে, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশটিও যাচাই-বাছাই শেষে সংসদে উত্থাপন করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, অধ্যাদেশের কিছু সংজ্ঞাগত অস্পষ্টতা রয়েছে যা প্রকৃত গুমের নির্দেশদাতাদের শনাক্ত করা কঠিন করে তোলে। মন্ত্রী তাঁর নিজের গুমকালীন অভিজ্ঞতার কথাও বৈঠকে তুলে ধরেন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়োজিত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) তদন্তকারী সংস্থা নয়। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, ক্যাম্পে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রেবেকা খান, ইউএনডিপি-র ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সোনালি দয়ারাতনে, অ্যাসিস্ট্যান্ট রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ আনোয়ারুল হক এবং রুল অফ ল, জাস্টিস অ্যান্ড সিকিউরিটি বিষয়ক অ্যাডভাইজার রোমানা শোয়িগার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএনডিপি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ: রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা

আপডেট সময় : ১২:৪৪:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রোববার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে তাঁর বেইলি রোডের সরকারি বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। সাক্ষাৎকালে আইনশৃঙ্খলা, পুলিশ সংস্কার, মানবাধিকার কমিশন গঠন, গুম প্রতিরোধ এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। ইউএনডিপি-র আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তাঁর নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ইউএনডিপি-র অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

পুলিশ সংস্কারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পুলিশকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য সরকার ধারাবাহিক সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই সংস্কার, পুনর্গঠন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইউএনডিপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

ইউএনডিপি-র আবাসিক প্রতিনিধি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনে সংস্থার সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, প্রায় ১৫-১৭ বছর ধরে সংস্থাটি কমিশনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। খসড়া অধ্যাদেশ প্রণয়নে আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম অনুশীলনগুলো অন্তর্ভুক্ত করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশের সঙ্গে স্বাধীন পুলিশ কমিশনের নিবিড় সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং জানান যে, প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হওয়ার পর এটি সংসদে বিল আকারে পেশ করা হবে। একই সঙ্গে, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশটিও যাচাই-বাছাই শেষে সংসদে উত্থাপন করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, অধ্যাদেশের কিছু সংজ্ঞাগত অস্পষ্টতা রয়েছে যা প্রকৃত গুমের নির্দেশদাতাদের শনাক্ত করা কঠিন করে তোলে। মন্ত্রী তাঁর নিজের গুমকালীন অভিজ্ঞতার কথাও বৈঠকে তুলে ধরেন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়োজিত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) তদন্তকারী সংস্থা নয়। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, ক্যাম্পে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রেবেকা খান, ইউএনডিপি-র ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সোনালি দয়ারাতনে, অ্যাসিস্ট্যান্ট রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ আনোয়ারুল হক এবং রুল অফ ল, জাস্টিস অ্যান্ড সিকিউরিটি বিষয়ক অ্যাডভাইজার রোমানা শোয়িগার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।