সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য বিশ্বজুড়ে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। এই বক্তব্যকে কেউ নিছক রসিকতা হিসেবে দেখলেও, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটিকে একটি বিপজ্জনক ভূরাজনৈতিক মানসিকতার প্রকাশ হিসেবে অভিহিত করছেন। বিশেষ করে, তথাকথিত সভ্য ও মূলধারার আমেরিকানদের মধ্যে এই মন্তব্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল মার্চ ২০২৬-এ, যখন ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে এমন মন্তব্য করেন। এটি অবশ্য ট্রাম্পের জন্য নতুন কিছু নয়; গ্রিনল্যান্ড, কানাডা বা কিউবার মতো অঞ্চল নিয়েও তার এমন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য অতীতে শোনা গেছে। এই ধরনের মন্তব্য তার দীর্ঘদিনের বিস্তৃত ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন।
সাধারণ মানুষের মধ্যে এই মন্তব্য নিয়ে নানা কৌতুকপূর্ণ আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ বলছেন, ‘ভেনেজুয়েলানদের কষ্ট করে আমেরিকায় যেতে হবে না, মিস্টার ট্রাম্প।’ আবার কেউ কেউ এটিকে আমেরিকার সুপারপাওয়ারগিরি হিসেবে দেখছেন, যা ইরানের মতো দেশের কাছেও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
তবে, আমেরিকা ও বিভিন্ন দেশের মূলধারার সমাজ, বুদ্ধিজীবী এবং নীতিনির্ধারকরা এই ধারণাকে বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করছেন। তাদের মতে, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রকে অঙ্গরাজ্যে রূপান্তরের ধারণা ১৯০০ শতকের সাম্রাজ্যবাদী চিন্তার প্রতিফলন, যা বর্তমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ। জাতিসংঘের চার্টার অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
দ্বিতীয়ত, মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই প্রস্তাবকে সাংবিধানিকভাবে অসম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অঙ্গরাজ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট জনগণের সম্মতি প্রয়োজন। ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে এই দুটি শর্তই পূরণ হওয়া প্রায় অসম্ভব।
রিপোর্টারের নাম 





















