ঢাকা ০২:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিগত ব্যর্থতার বোঝা বইছে তারেক রহমানের প্রশাসন

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন দেড় বছরের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা এবং নীতিগত ভুল সিদ্ধান্তের চড়া মাশুল দিতে হচ্ছে বর্তমান নির্বাচিত সরকারকে। সংশ্লিষ্টদের মতে, গত ১৮ মাসে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিগুলোতে অযথা হস্তক্ষেপ করে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়েছিল, তার নেতিবাচক প্রভাব এখন প্রকট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকাদান কর্মসূচি বা অপারেশনাল প্ল্যান (ওপি) গত আগস্টে বাতিল করায় দেশজুড়ে হামের মতো মরণব্যাধি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। টিকার অভাবে শিশুদের মৃত্যু এবং পোলিও বা যক্ষ্মার মতো জীবনরক্ষাকারী টিকার তীব্র সংকট এখন তারেক রহমানের সরকারের জন্য এক মানবিক বিপর্যয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সদিচ্ছার অভাব ও ধীরগতির কারণেই আজ নির্বাচিত সরকারকে এই ‘ব্যর্থতার কঙ্কাল’ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বোঝা বর্তমান প্রশাসনের জন্য বড় মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ১৮ মাসে প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ ঋণ এবং ১০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করেছে বিগত সরকার, যার কিস্তি পরিশোধের চাপ এখন আসন্ন বাজেটে প্রতিফলিত হচ্ছে। এছাড়া কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই দুর্বল ব্যাংকগুলোকে একীভূত করা এবং সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের মূলধন শূন্য ঘোষণার মতো হঠকারী সিদ্ধান্তে ব্যাংক খাতে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীদের হয়রানি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ এবং এলসি সুবিধা বন্ধ করে দেওয়ার ফলে বেসরকারি বিনিয়োগ তলানিতে ঠেকেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থান ও রাজস্ব আদায়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নরও স্বীকার করেছেন যে, সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলো অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে।

জ্বালানি খাতেও একই ধরনের বিপর্যয় রেখে গেছে বিগত প্রশাসন। গত জানুয়ারিতে এলপিজি গ্যাসের সংকট এবং বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের অজুহাতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় যে ধস নেমেছে, তার মূলে রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অভাব। প্রশাসনে অদক্ষ লোক নিয়োগ এবং রাজস্ব কর্মকর্তাদের গণ-বরখাস্তের ফলে চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে, যার ফলে নির্বাচিত সরকারকে এখন প্রতিটি পদক্ষেপে বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এমনকি মশার প্রকোপ বৃদ্ধি বা নাগরিক সেবার মান হ্রাসের পেছনেও অন্তর্বর্তী সরকারের অদূরদর্শিতাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমান সরকার এখন এই বহুমুখী সংকট থেকে উত্তরণে বিকল্প উৎস ও জরুরি বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালী থেকে মাইন সরাতে ন্যাটোর সহায়তা পাবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিগত ব্যর্থতার বোঝা বইছে তারেক রহমানের প্রশাসন

আপডেট সময় : ০১:৫৩:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন দেড় বছরের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা এবং নীতিগত ভুল সিদ্ধান্তের চড়া মাশুল দিতে হচ্ছে বর্তমান নির্বাচিত সরকারকে। সংশ্লিষ্টদের মতে, গত ১৮ মাসে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিগুলোতে অযথা হস্তক্ষেপ করে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়েছিল, তার নেতিবাচক প্রভাব এখন প্রকট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকাদান কর্মসূচি বা অপারেশনাল প্ল্যান (ওপি) গত আগস্টে বাতিল করায় দেশজুড়ে হামের মতো মরণব্যাধি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। টিকার অভাবে শিশুদের মৃত্যু এবং পোলিও বা যক্ষ্মার মতো জীবনরক্ষাকারী টিকার তীব্র সংকট এখন তারেক রহমানের সরকারের জন্য এক মানবিক বিপর্যয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সদিচ্ছার অভাব ও ধীরগতির কারণেই আজ নির্বাচিত সরকারকে এই ‘ব্যর্থতার কঙ্কাল’ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বোঝা বর্তমান প্রশাসনের জন্য বড় মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ১৮ মাসে প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ ঋণ এবং ১০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করেছে বিগত সরকার, যার কিস্তি পরিশোধের চাপ এখন আসন্ন বাজেটে প্রতিফলিত হচ্ছে। এছাড়া কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই দুর্বল ব্যাংকগুলোকে একীভূত করা এবং সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের মূলধন শূন্য ঘোষণার মতো হঠকারী সিদ্ধান্তে ব্যাংক খাতে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীদের হয়রানি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ এবং এলসি সুবিধা বন্ধ করে দেওয়ার ফলে বেসরকারি বিনিয়োগ তলানিতে ঠেকেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থান ও রাজস্ব আদায়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নরও স্বীকার করেছেন যে, সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলো অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে।

জ্বালানি খাতেও একই ধরনের বিপর্যয় রেখে গেছে বিগত প্রশাসন। গত জানুয়ারিতে এলপিজি গ্যাসের সংকট এবং বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের অজুহাতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় যে ধস নেমেছে, তার মূলে রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অভাব। প্রশাসনে অদক্ষ লোক নিয়োগ এবং রাজস্ব কর্মকর্তাদের গণ-বরখাস্তের ফলে চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে, যার ফলে নির্বাচিত সরকারকে এখন প্রতিটি পদক্ষেপে বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এমনকি মশার প্রকোপ বৃদ্ধি বা নাগরিক সেবার মান হ্রাসের পেছনেও অন্তর্বর্তী সরকারের অদূরদর্শিতাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমান সরকার এখন এই বহুমুখী সংকট থেকে উত্তরণে বিকল্প উৎস ও জরুরি বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে।