জনবহুল বাংলাদেশ, যেখানে কর্মসংস্থান একটি বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে নারীদের কর্মসংস্থান তৈরি এবং ধরে রাখা আরও বেশি কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ব্যাংক খাতে নারী কর্মীর সংখ্যা ৭৭০ জন কমে গেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নারীর ক্ষমতায়নের জন্য কর্মসংস্থান অপরিহার্য, কিন্তু এমন একটি সম্মানজনক পেশা কেন নারীরা ছেড়ে দিচ্ছেন, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ব্যাংকিং পেশাটি সম্মানিত হওয়া সত্ত্বেও নারীদের সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। একটি প্রধান কারণ হলো দেশের প্রয়োজনের তুলনায় ব্যাংকের সংখ্যা অনেক বেশি। বিভিন্ন দেশের জিডিপির সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের মতো ছোট অর্থনীতিতেও ব্যাংকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। যেমন, ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এবং চীনের মতো বড় অর্থনীতির দেশে লাইসেন্সপ্রাপ্ত দেশীয় ব্যাংকের সংখ্যা অনেক কম। বাংলাদেশে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ফলে ব্যাংকারদের গ্রাহক পর্যায়ে এবং ব্যাংক ব্যবস্থাপনার কাছে কদর কমে গেছে। অনেক সময় গ্রাহকদের কাছ থেকে এমন প্রতিক্রিয়া আসে যে, একই ধরনের সেবা নিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রতিনিধিরা আসছেন, যা ব্যাংকিং পেশার মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছে। নারী সহকর্মীরা এই পরিস্থিতি সহজে মানতে পারেন না, যা তাদের পেশা ত্যাগের অন্যতম কারণ হতে পারে।
শুধু ব্যাংক খাত নয়, অন্যান্য কিছু পেশাতেও, যেমন – বিক্রয় প্রতিনিধি বা ফুটপাতের হকারদের মতো ক্ষেত্রেও নারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। যদিও অনেকে এই উদাহরণকে উপহাস করতে পারেন, তবে বাস্তবতা হলো, দেশে প্রয়োজনের তুলনায় ব্যাংকের সংখ্যা বেশি হওয়ায় ব্যাংকিংয়ের মতো সম্মানীয় পেশাটিও তার পূর্বের মর্যাদা হারাচ্ছে, যা নারী কর্মীদের এই খাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার পেছনে একটি বড় কারণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 























