যুদ্ধ বা সশস্ত্র সংঘাত কেন ঘটে এবং কেন বৃহৎ শক্তিগুলো এতে জড়িয়ে পড়ে, তা প্রায়শই জনসম্মুখ থেকে আড়াল করে রাখা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ হাওয়ার্ড জিন মনে করেন, একটি জাতির ইতিহাস কেবল বিজয়ী বা প্রভাবশালী গোষ্ঠীর দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করা উচিত নয়। তিনি তার ‘এ পিপলস হিস্ট্রি অফ দি ইউনাইটেড স্টেটস’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ইতিহাসকে কেবল উন্নত বা সম্ভ্রান্তদের চোখে দেখলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও অমানবিক সত্য আড়ালে থেকে যায়।
জিন আরও বলেন, পশ্চিমা সভ্যতা, পারমাণবিক অস্ত্রের উদ্ভাবন, ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং হাঙ্গেরির ঘটনাসহ অনেক ঐতিহাসিক সত্যকে আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে গেছি বা আড়াল করে রেখেছি। এর ফলেই আমরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হয়েছি। আগ্রাসন, যুদ্ধ এবং গণহত্যাকেও অনেক সময় ‘প্রগতি’র নামে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে।
হেনরি কিসিঞ্জার তার ‘A World Restored’ বইয়ে লিখেছেন যে, ইতিহাস কোনো ব্যক্তিবিশেষের স্মৃতি নয়, বরং একটি জাতির সম্মিলিত স্মৃতি। ইতিহাসবিদরা তাই যুদ্ধ, সংঘাত এবং সশস্ত্র পরিস্থিতিকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখেছেন। কিসিঞ্জার মনে করেন, একটি দেশের ইতিহাস মানে সেই দেশের সকল সম্প্রদায়, জাতিগোষ্ঠী, আক্রমণকারী এবং আক্রান্ত—সকলের ইতিহাস। কেবল বিজয়ীদের নয়, পরাজিত ও আক্রান্তদের দৃষ্টিকোণ থেকেও ইতিহাসকে দেখতে হবে। তবেই অনেক অবিশ্বাস্য ও নির্মম সত্য উন্মোচিত হবে।
ঐতিহাসিকভাবে, যুদ্ধ ও সশস্ত্র সংঘাতের সাথে ঔপনিবেশিকতার গভীর সম্পর্ক ছিল। সময়ের সাথে সাথে ঔপনিবেশিকতার রূপ পরিবর্তিত হয়ে নয়া-ঔপনিবেশিকতা ও সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থার উত্থান ঘটেছে। যুদ্ধকে রাজনীতিরই একটি ভিন্ন রূপ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
মাও সেতুংয়ের যুদ্ধ বিষয়ক বিশ্লেষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ হলো রাজনীতিরই ধারাবাহিক রূপ।’ অর্থাৎ, যুদ্ধ নিজেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং এটি অন্য উপায়ে রাজনীতিরই সম্প্রসারণ। তিনি আরও বলেন, ‘রাজনীতি হলো রক্তপাতহীন যুদ্ধ আর যুদ্ধ হলো রক্তপাতময় রাজনীতি।’ এই উক্তি যুদ্ধের রাজনৈতিক প্রকৃতিকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
রিপোর্টারের নাম 
























