প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব (এপিএস) পরিচয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কামরুল হাসান হিমেল ও শরিফ আহমেদ নামের দুই প্রতারককে আটক করেছে র্যাব-৯। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে সিলেট র্যাব-৯ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
র্যাব জানায়, আটককৃতরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে বিকাশসহ বিভিন্ন মোবাইল আর্থিক সেবা ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রতারণা করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর কাজীটুলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে মূল হোতা কামরুল হাসান হিমেলকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার সহযোগী শরিফ আহমেদকে (৪২) গ্রেপ্তার করে র্যাব।
গ্রেপ্তারকৃত কামরুল হাসান হিমেল কুলাউড়া বাগৃহাল এলাকার মো. আনহার হোসেনের ছেলে এবং শরিফ আহমেদ জৈন্তাপুর থানার ঘাটেরচটি এলাকার মো. আব্দুল বারেকের ছেলে। গ্রেপ্তারের সময় তাদের হেফাজত থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৩টি স্মার্ট ফোন, একটি আইফোন ১৬ প্রোম্যাক্স ও দুটি বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এছাড়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহার করেও তারা ভুয়া পরিচয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নিতো বলে জানা গেছে।
র্যাব-৯ এর উপ-অধিনায়ক মেজর আসিফ আল-রাজেক জানিয়েছেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং এ ধরনের প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। জব্দকৃত আলামত বিশ্লেষণ করে মোবাইল ফোনে প্রধানমন্ত্রীর এপিএস এর পরিচয়ে একাধিক ফেসবুক আইডির তথ্য পাওয়া গেছে এবং হোয়াটসঅ্যাপে বিভিন্ন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড ও অবৈধ লেনদেনের বিষয়াদিও স্পষ্ট হয়েছে। হিমেলের বিরুদ্ধে ঢাকার সাভার থানায় দুটি মামলা রয়েছে। তিনি স্বীকার করেছেন যে, পূর্বেও তিনি আওয়ামী লীগ এবং অন্তবর্তী সরকারের আমলেও একই ধরনের প্রতারণা করতেন।
তাদের দু’জনকেই কোতোয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন র্যাবের গণমাধ্যম কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ।
রিপোর্টারের নাম 
























