ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান যুদ্ধ ন্যাটো (NATO) জোটের ভেতরে একটি গভীর কাঠামোগত মতবিরোধ উন্মোচন করছে, যা জোটের বাইরের যেকোনো বর্তমান হুমকির চেয়েও বেশি গুরুতর হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটোর ইউরোপীয় সদস্য দেশগুলোকে এই যুদ্ধে যোগদানের আহ্বান জানালেও, তারা এটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধ হিসেবে আখ্যায়িত করে এতে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এই ঘটনার পর ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইউরোপ যদি যুক্তরাষ্ট্রের পাশে না দাঁড়ায়, তবে ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের পাশে থাকবে না। মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সংঘাত পশ্চিমা বিশ্বের দীর্ঘদিনের সামরিক জোট ন্যাটোর মধ্যে একটি স্পষ্ট বিভাজন তৈরি করেছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সদস্য দেশগুলোর পরস্পরবিরোধী অগ্রাধিকার আগামী দিনে ন্যাটোর ঐক্য এবং সক্ষমতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
ন্যাটো কোন বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে বা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কোন বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ—এসব নিয়ে মতবিরোধ বাড়তে থাকায় এই সামরিক জোট একটি নীরব কিন্তু বিপজ্জনক ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে। এই ঝুঁকিটি হলো ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য। তবে, ন্যাটোকে এই ধরনের পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হচ্ছে, এমনটি এই প্রথম নয়। এর আগেও, স্নায়ুযুদ্ধের পর বলকান অঞ্চলে স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী শক্তি হিসেবে ন্যাটো নিজেকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১-এর হামলার পর ন্যাটো একটি বৈশ্বিক নিরাপত্তা শক্তিতে পরিণত হয় এবং এর মূল ভৌগোলিক পরিধির বাইরেও, বিশেষ করে আফগানিস্তানে, নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করে। অতি সম্প্রতি রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখল এবং ইউক্রেনে আগ্রাসন ন্যাটোকে তার মূল লক্ষ্যে, অর্থাৎ ইউরোপের পূর্বাঞ্চলের প্রতিরক্ষায় ভূমিকা পালনে ফিরিয়ে এনেছে।
কিন্তু ইরান যুদ্ধ ন্যাটোর সামনে এক ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। ইরানের বর্তমান যুদ্ধ ইউক্রেনের মতো নয়, যা সরাসরি ইউরোপীয় নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে। বরং মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত ন্যাটোর কৌশলগত মূল কেন্দ্রের প্রান্তে অবস্থিত। এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মধ্যপ্রাচ্য বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার একটি কেন্দ্রীয় ক্ষেত্র, যেখানে তার বিশ্বাসযোগ্যতা, প্রতিরোধ সক্ষমতা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা—সবই বর্তমানে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ইউরোপীয় মিত্র দেশের জন্য এই যুদ্ধকে অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে না।
রিপোর্টারের নাম 
























