দেশে আশঙ্কাজনক হারে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে চলায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে গুরুতর আক্রান্ত শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় এনআইসিইউ (NICU) ও আইসিইউ শয্যার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে তিল ধারণের জায়গা নেই; ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে সাধারণ ওয়ার্ডে ঠাঁই না হওয়ায় অনেক শিশুকে মেঝের ওপর রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিশুদের স্বজনরা একটি আইসিইউ বেডের জন্য হন্যে হয়ে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি দেখা যাচ্ছে, যদিও নিয়ম অনুযায়ী ৯ মাস পূর্ণ হওয়ার পর হামের টিকা দেওয়া হয়। কক্সবাজার, খুলনা, রাজশাহী ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলায় ইতিমধ্যে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে ৫০ জনেরও বেশি শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ যা মূলত হাঁচি, কাশি এবং বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। এই রোগের প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে তীব্র জ্বর (১০৩-১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট), সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং গালের ভেতরে সাদা দাগ (কপলিক স্পট)। সংক্রমণের কয়েকদিন পর মুখ থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা র্যাশ ছড়িয়ে পড়ে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা ও যত্ন না নিলে এটি নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) কিংবা মারাত্মক পানিশূন্যতার মতো প্রাণঘাতী জটিলতা তৈরি করতে পারে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কোভিডের সময় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে (EPI) যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাবেই এখন এই প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে।
সারাদেশে আক্রান্তের সঠিক ও সমন্বিত তথ্য নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরণের সমন্বয়হীনতা লক্ষ্য করা গেছে। অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার তথ্যমতে, জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৬৮৪ জন নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে, তবে উপসর্গ থাকা ‘সাসপেক্টেড’ রোগীর সংখ্যা এর চেয়ে বহুগুণ বেশি। রাজশাহী ও ময়মনসিংহে সংক্রমণের হার সবচেয়ে উদ্বেগজনক। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আগামী রোববার থেকে দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন। ইতিমধ্যে ৯০ লাখ ডোজ টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। শিশুদের শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতা কমাতে আইসিডিডিআর,বি-র উদ্ভাবিত ‘বাবল সিপ্যাপ’ প্রযুক্তি ব্যবহারেরও পরিকল্পনা করছে সরকার।
রিপোর্টারের নাম 



















