ইরানের অবরোধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার প্রায় ৪০টি দেশ নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন, যার মূল লক্ষ্য প্রণালিটি পুনরায় চালু করা এবং নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করা।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন হয়। কিন্তু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার পর তেহরান এই জলপথে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা যুদ্ধের আগের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।
এই জোটের ভার্চুয়াল বৈঠকে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ৪০টির বেশি দেশ অংশ নিচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ইউরোপীয় দেশগুলো সরাসরি জড়াতে অনাগ্রহী থাকলেও, জ্বালানি দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে তারা এখন যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে যোগ দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই বৈঠকে অংশ নিচ্ছে না।
বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করা, আটকে পড়া জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের সরবরাহ পুনরায় চালু করা। এছাড়াও, যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে সামরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রণালিকে নিরাপদ করার পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে, যার মধ্যে মাইন অপসারণ এবং তেলবাহী জাহাজকে নিরাপত্তা দেওয়া অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
তবে, জোটের সফলতা নিয়ে সংশয়ও রয়েছে। ইরান ইতোমধ্যে যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দাবি করেছে। বর্তমানে ইরান শুধুমাত্র “বন্ধুত্বপূর্ণ” কিছু দেশের জাহাজকে সীমিতভাবে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে এবং প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা ছাড়া জোরপূর্বক প্রণালি খুলে দেওয়া কঠিন হবে।
রিপোর্টারের নাম 























