দেশের সকল মহানগরের স্কুল ও কলেজে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস চালুর সরকারের সিদ্ধান্তকে ‘অপরিণামদর্শী’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, জ্বালানি সঙ্কটের অজুহাত দেখিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর অনলাইন ক্লাস চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা জাতিকে মেধাশূন্য করার গভীর ষড়যন্ত্রেরই অংশ।
আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, অনলাইন-নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার ফলে শিক্ষার্থীরা বহুমুখী ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ইন্টারনেটের উচ্চমূল্যের কারণে অনেক গরিব শিক্ষার্থী শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অনলাইন ক্লাসের নামে স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ডিভাইসে আসক্তি ও নৈতিক অবক্ষয়ের ঝুঁকিতে পড়ে। শ্রেণিকক্ষভিত্তিক পঠন-পাঠন ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়ার অভ্যাসও দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমতাবস্থায়, অনলাইন-নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা মানে জেনেশুনে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ধ্বংস করা।
তিনি উল্লেখ করেন, গত কোভিড-১৯ সময়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ওপর অনলাইন-নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার প্রভাব কেমন ছিল, তা ‘ন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট ২০২২’-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সেখানে দেখা গেছে, প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা বাংলা ও গণিতে শ্রেণি-উপযোগী যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। ইউনিসেফসহ বিভিন্ন সংস্থার জরিপেও দেখা গেছে, অনলাইন ক্লাসের সময়গুলোতে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার এবং শিশু শ্রম—উভয়ই বেড়েছে। তিনি বলেন, এছাড়া, নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন, জুলাই বিপ্লবের সময় এবং তার পরবর্তী সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনিশ্চয়তা এবং শিক্ষা সংস্কারে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের ও শিক্ষা ব্যবস্থার যে ক্ষতি হয়েছে, তা আমরা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি।
রিপোর্টারের নাম 






















