১৯৬৯ সালের জুলাই মাসে অ্যাপোলো মিশনের মাধ্যমে প্রথমবার মানুষের চাঁদে অবতরণের ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর, নাসা আবারও নভোচারীদের চাঁদের কাছাকাছি পাঠিয়েছে। বৃহস্পতিবার নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের মধ্য দিয়ে চার নভোচারী চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন। এই দলে তিনজন মার্কিন ও একজন কানাডীয় নভোচারী রয়েছেন, যা মহাকাশ গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ৩৫ মিনিটে (জিএমটি রাত ১০টা ৩৫ মিনিট) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে কমলা-সাদা রঙের শক্তিশালী রকেটটি বিকট গর্জন ছেড়ে মহাকাশে উড়ে যায়। এই ঐতিহাসিক যাত্রা বিশ্বজুড়ে মহাকাশপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করেছে।
তবে আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীরা এবার সরাসরি চাঁদে অবতরণ করবেন না। বরং, আগামী ১০ দিনের এই অভিযানটি ভবিষ্যতের মানব চন্দ্রাভিযানের পথ প্রস্তুত করবে। এই মিশনে নভোচারীরা চাঁদের যে অংশ পৃথিবী থেকে দেখা যায় না, সেই অংশ থেকে প্রায় ৬৪০০ মাইল দূর দিয়ে উড়ে যাবেন। সেখানে তারা তিন ঘণ্টা অবস্থান করবেন এবং বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ ও ছবি ধারণ করবেন।
এছাড়া, নভোচারীরা পৃথিবীতে ফিরে আসার পর তাদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপর নিবিড় নজর রাখা হবে। এর উদ্দেশ্য হলো, মানুষের শরীর ও মনের ওপর মহাকাশ ভ্রমণের প্রভাব কতটা, তা বোঝা এবং ভবিষ্যতের মিশনগুলো আরও নিরাপদ করা। এই তথ্য ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদী মহাকাশ যাত্রার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই চার নভোচারী নিরাপদে ফিরে আসতে পারলে নাসার পরবর্তী লক্ষ্য হলো ২০২৮ সালের মধ্যে আরও একটি মিশনের আয়োজন করা এবং মানুষকে পুনরায় চাঁদের বুকে নামানো। আর্টেমিস কর্মসূচির এই ধাপটি মানবজাতির মহাকাশ জয় এবং চাঁদকে একটি স্থায়ী গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
রিপোর্টারের নাম 























