ঢাকা ০২:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

আর্টেমিস-২ মিশন: চাঁদের পথে নভোচারীদের জন্য বিশেষ খাদ্যতালিকা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১২:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ ৫৪ বছর পর চাঁদের অভিমুখে আবারও মানুষ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার ঐতিহাসিক আর্টেমিস-২ মিশন। এই গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে নভোচারীদের শারীরিক সুস্থতা ও কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে একটি সুচিন্তিত ও বিস্তারিত খাদ্যতালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, যা তাদের সকালের নাস্তা, দুপুর ও রাতের খাবারের সময়সূচি অনুযায়ী সাজানো হয়েছে।

আর্টেমিস-২ মিশনের মেন্যুতে মোট ১৮৯ ধরনের খাবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আমের সালাদ, স্পাইসি গ্রিন বিনস, ব্লুবেরি গ্রানোলা এবং টরটিয়া। পানীয় হিসেবেও রয়েছে বৈচিত্র্য; কফি থেকে শুরু করে ম্যাঙ্গো-পিচ স্মুদি ও স্ট্রবেরি জুসসহ দশটিরও বেশি ধরনের ব্রেকফাস্ট ড্রিংকস। নভোচারীরা প্রতিদিন এই পানীয়গুলো থেকে দুটি বেছে নিতে পারবেন।

নাসা জানিয়েছে, এই মেন্যু তৈরির সময় নভোচারীদের ব্যক্তিগত পছন্দকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুষ্টিগুণ এবং মহাকাশযানের সীমাবদ্ধতাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। ওরিয়ন মহাকাশযানে খাবার সংরক্ষণ ও ব্যবহারের সুবিধার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাবারের ধরন নির্বাচন করা হয়েছে। মাইক্রোগ্রাভিটি পরিবেশে খাবার সহজে খাওয়া যায় এবং কম বর্জ্য তৈরি হয়—এমন খাবারই প্রাধান্য পেয়েছে।

যেহেতু মিশনে কোনো ফ্রিজ থাকবে না, তাই তাজা খাবার সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। নভোচারীরা অনবোর্ড পানির ডিসপেনসার ব্যবহার করে শুকনো খাবার পুনরায় প্রস্তুত করতে পারবেন। খাবার গরম করার জন্য একটি বিশেষ ফুড ওয়ার্মারও থাকবে। গত ১ এপ্রিল ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ৩২ তলা বিশিষ্ট শক্তিশালী রকেটটি চারজন নভোচারীকে নিয়ে মহাকাশে উড়াল দেয়। এই পরীক্ষামূলক ১০ দিনের মিশনে নভোচারীরা চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করবেন, তবে চাঁদের মাটিতে অবতরণ করবেন না। মিশন শেষে তারা পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শরিফুলের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন: তপ্ত গরমে কিউইদের নাভিশ্বাস

আর্টেমিস-২ মিশন: চাঁদের পথে নভোচারীদের জন্য বিশেষ খাদ্যতালিকা

আপডেট সময় : ০৭:১২:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

দীর্ঘ ৫৪ বছর পর চাঁদের অভিমুখে আবারও মানুষ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার ঐতিহাসিক আর্টেমিস-২ মিশন। এই গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে নভোচারীদের শারীরিক সুস্থতা ও কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে একটি সুচিন্তিত ও বিস্তারিত খাদ্যতালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, যা তাদের সকালের নাস্তা, দুপুর ও রাতের খাবারের সময়সূচি অনুযায়ী সাজানো হয়েছে।

আর্টেমিস-২ মিশনের মেন্যুতে মোট ১৮৯ ধরনের খাবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আমের সালাদ, স্পাইসি গ্রিন বিনস, ব্লুবেরি গ্রানোলা এবং টরটিয়া। পানীয় হিসেবেও রয়েছে বৈচিত্র্য; কফি থেকে শুরু করে ম্যাঙ্গো-পিচ স্মুদি ও স্ট্রবেরি জুসসহ দশটিরও বেশি ধরনের ব্রেকফাস্ট ড্রিংকস। নভোচারীরা প্রতিদিন এই পানীয়গুলো থেকে দুটি বেছে নিতে পারবেন।

নাসা জানিয়েছে, এই মেন্যু তৈরির সময় নভোচারীদের ব্যক্তিগত পছন্দকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুষ্টিগুণ এবং মহাকাশযানের সীমাবদ্ধতাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। ওরিয়ন মহাকাশযানে খাবার সংরক্ষণ ও ব্যবহারের সুবিধার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাবারের ধরন নির্বাচন করা হয়েছে। মাইক্রোগ্রাভিটি পরিবেশে খাবার সহজে খাওয়া যায় এবং কম বর্জ্য তৈরি হয়—এমন খাবারই প্রাধান্য পেয়েছে।

যেহেতু মিশনে কোনো ফ্রিজ থাকবে না, তাই তাজা খাবার সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। নভোচারীরা অনবোর্ড পানির ডিসপেনসার ব্যবহার করে শুকনো খাবার পুনরায় প্রস্তুত করতে পারবেন। খাবার গরম করার জন্য একটি বিশেষ ফুড ওয়ার্মারও থাকবে। গত ১ এপ্রিল ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ৩২ তলা বিশিষ্ট শক্তিশালী রকেটটি চারজন নভোচারীকে নিয়ে মহাকাশে উড়াল দেয়। এই পরীক্ষামূলক ১০ দিনের মিশনে নভোচারীরা চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করবেন, তবে চাঁদের মাটিতে অবতরণ করবেন না। মিশন শেষে তারা পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।