দশম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা কর্মবিরতি স্থগিতের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে পুনরায় কর্মবিরতি ও লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
রোববার রাতে সচিবালয়ে সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ কর্মবিরতি স্থগিতের ঘোষণা দিলেও মধ্যরাতে অন্য শিক্ষক নেতারা সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেন।
শিক্ষক নেতাদের মধ্যে বিভক্ত অবস্থার পর ‘প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (শাহিন-লিপি)’র সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি শহীদ মিনারে অবস্থানরত শিক্ষকদের উদ্দেশে ঘোষণা দেন, “কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি চলবে।”
এর কিছু পরেই পাঁচ শিক্ষক নেতা খায়রুন নাহার লিপি, শাহিনুর আল আমিন, আবুল কাশেম, আনিসুর রহমান, মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ ও মাহবুবুর রহমান চঞ্চল যৌথ বিবৃতি দিয়ে জানান, সোমবার বিকাল ৫টায় অর্থ সচিব ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিবের সঙ্গে ‘চূড়ান্ত বৈঠক’ হবে। তার আগ পর্যন্ত কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি চলবে।
রোববার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শিক্ষকরা তাদের তিন দফা দাবি, দশম গ্রেডে বেতন, চাকরির ১০ ও ১৬ বছরে উচ্চতর গ্রেড জটিলতা নিরসন এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা উপস্থাপন করেন।
বৈঠক শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার আবদুল্লাহ শিবলী সাদিক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, শিক্ষক নেতাদের দাবির বিষয়ে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়ার পর তারা কর্মবিরতি স্থগিত করেছিলেন। পরে শহীদ মিনারে ফিরে আসার পর শিক্ষকরা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন।
শনিবার সকাল থেকে শিক্ষকরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। একই দিন বিকেলে তারা শাহবাগে ‘কলম বিরতি’ কর্মসূচি পালন করতে গেলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, জলকামান ও কাঁদুনে গ্যাস ছুড়লে দেড় শতাধিক শিক্ষক আহত হন এবং পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে শিক্ষক সংগঠনগুলোর দাবি।
‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর নেতৃত্বে চারটি সংগঠন আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (কাশেম-শাহিন), বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (শাহিন-লিপি), বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি এবং সহকারী শিক্ষক দশম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদ।
এদিকে একাদশ গ্রেড, পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেড জটিলতা নিরসনের দাবিতে আন্দোলনরত আরেক শিক্ষক জোট ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’ও আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে।
শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান ও কর্মবিরতি উভয় কর্মসূচি চলবে।
রিপোর্টারের নাম 
























