ঢাকা ০২:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

তরুণ ও নারীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে অগ্রাধিকার: জামায়াতের ‘জনতার ইশতেহার’ প্রস্তুত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহার চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ‘জনতার ইশতেহার’ শিরোনামের এই দলিলে জনগুরুত্বপূর্ণ ২৫টি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার করা হয়েছে। এবারের ইশতেহারে গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে আধুনিক শিক্ষার উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতিবিরোধী কঠোর পরিকল্পনার পাশাপাশি তরুণ ও নারী সমাজের প্রত্যাশাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এটি ডিজিটাল এবং ম্যানুয়াল—উভয় মাধ্যমেই ভোটারদের সামনে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা হবে। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০ জানুয়ারির পর যেকোনো সময় এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হতে পারে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের নির্দেশনায় এবং সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের তত্ত্বাবধানে বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে এই ইশতেহার তৈরি করা হয়েছে। এতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অর্থনীতিবিদ, প্রকৌশলী ও চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ‘জনতার ইশতেহার’ অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া প্রায় সাড়ে চার হাজার মতামতের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, এবারের ইশতেহারে প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বা টাইমলাইন দেওয়া হবে, যেখানে প্রথম ১০০ দিন, ছয় মাস এবং এক বছরের পৃথক কর্মসূচি উল্লেখ থাকবে।

ইশতেহারে নৈতিক ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার, নারীদের সামাজিক মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনায় উজ্জীবিত তরুণদের আকাঙ্ক্ষা পূরণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানান, তাদের মূল লক্ষ্য হলো বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে সবাইকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়া। কেন্দ্রীয় ইশতেহারের পাশাপাশি প্রতিটি আসনের প্রার্থীরা স্ব-স্ব এলাকার সমস্যা ও উন্নয়নের ভিত্তিতে পৃথক আঞ্চলিক পরিকল্পনাও তুলে ধরবেন। তৃণমূলের এই পরিকল্পনায় প্রবাসীদের প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ এবং মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির মতো বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে। সব মিলিয়ে এক নতুন আঙ্গিকে ভোটারদের মন জয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের ওয়ানডে জয়ে বাংলাদেশের সৈকত, আইসিসি চুক্তিতে নেই বিসিবির বাধা

তরুণ ও নারীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে অগ্রাধিকার: জামায়াতের ‘জনতার ইশতেহার’ প্রস্তুত

আপডেট সময় : ১১:৩৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহার চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ‘জনতার ইশতেহার’ শিরোনামের এই দলিলে জনগুরুত্বপূর্ণ ২৫টি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার করা হয়েছে। এবারের ইশতেহারে গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে আধুনিক শিক্ষার উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতিবিরোধী কঠোর পরিকল্পনার পাশাপাশি তরুণ ও নারী সমাজের প্রত্যাশাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এটি ডিজিটাল এবং ম্যানুয়াল—উভয় মাধ্যমেই ভোটারদের সামনে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা হবে। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০ জানুয়ারির পর যেকোনো সময় এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হতে পারে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের নির্দেশনায় এবং সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের তত্ত্বাবধানে বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে এই ইশতেহার তৈরি করা হয়েছে। এতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অর্থনীতিবিদ, প্রকৌশলী ও চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ‘জনতার ইশতেহার’ অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া প্রায় সাড়ে চার হাজার মতামতের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, এবারের ইশতেহারে প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বা টাইমলাইন দেওয়া হবে, যেখানে প্রথম ১০০ দিন, ছয় মাস এবং এক বছরের পৃথক কর্মসূচি উল্লেখ থাকবে।

ইশতেহারে নৈতিক ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার, নারীদের সামাজিক মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনায় উজ্জীবিত তরুণদের আকাঙ্ক্ষা পূরণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানান, তাদের মূল লক্ষ্য হলো বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে সবাইকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়া। কেন্দ্রীয় ইশতেহারের পাশাপাশি প্রতিটি আসনের প্রার্থীরা স্ব-স্ব এলাকার সমস্যা ও উন্নয়নের ভিত্তিতে পৃথক আঞ্চলিক পরিকল্পনাও তুলে ধরবেন। তৃণমূলের এই পরিকল্পনায় প্রবাসীদের প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ এবং মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির মতো বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে। সব মিলিয়ে এক নতুন আঙ্গিকে ভোটারদের মন জয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।