ঢাকা ০৫:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি লোডিং ৭ এপ্রিল হচ্ছে না

পূর্বনির্ধারিত আগামী ৭ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ফুয়েল) লোডিং শুরু হচ্ছে না। প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন বুধবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিবন্ধন (কমিশনিং লাইসেন্স) না পাওয়ায় জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়া পিছিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

এর আগে, ১৪ মার্চ অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঘোষণা দিয়েছিলেন যে ৭ এপ্রিল থেকেই জ্বালানি লোডিং শুরু হবে এবং জুন-জুলাই মাসের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। তবে, লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সেই পরিকল্পনা আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বিএইআরএ) কমিশনিং লাইসেন্স এখনো অনুমোদিত হয়নি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এখনো পর্যালোচনায় রয়েছে এবং অনুমোদন মিললেই নতুন সময়সূচি ঘোষণা করা হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় এক মাস সময় লাগে। এর পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে চেইন রিঅ্যাকশন শুরু করা সম্ভব হয়। পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে সময় লাগে প্রায় ১০ থেকে ১১ মাস। ফলে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী জুলাইয়ে ৩০০ মেগাওয়াট এবং ডিসেম্বরের মধ্যে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যও পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তারা আশাবাদী যে চলতি মাসের শেষ নাগাদ জ্বালানি লোডিং শুরু করা সম্ভব হবে। তাদের দাবি, প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ, পরীক্ষা এবং পরিদর্শন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

অন্যদিকে, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেছেন, তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিসহ জ্বালানি খাতে রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞাজনিত কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ। মন্ত্রী আরও বলেন, বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন দেশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। জাতীয় গ্রিডে নতুন সক্ষমতা যোগ করতে দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়া জরুরি। সেই লক্ষ্যেই রূপপুর প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মায়ের পাতে কতটা খাবার? উপেক্ষিত পুষ্টি ও নীরব আত্মত্যাগের চিত্র

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি লোডিং ৭ এপ্রিল হচ্ছে না

আপডেট সময় : ০৮:৫২:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

পূর্বনির্ধারিত আগামী ৭ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ফুয়েল) লোডিং শুরু হচ্ছে না। প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন বুধবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিবন্ধন (কমিশনিং লাইসেন্স) না পাওয়ায় জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়া পিছিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

এর আগে, ১৪ মার্চ অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঘোষণা দিয়েছিলেন যে ৭ এপ্রিল থেকেই জ্বালানি লোডিং শুরু হবে এবং জুন-জুলাই মাসের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। তবে, লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সেই পরিকল্পনা আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বিএইআরএ) কমিশনিং লাইসেন্স এখনো অনুমোদিত হয়নি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এখনো পর্যালোচনায় রয়েছে এবং অনুমোদন মিললেই নতুন সময়সূচি ঘোষণা করা হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় এক মাস সময় লাগে। এর পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে চেইন রিঅ্যাকশন শুরু করা সম্ভব হয়। পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে সময় লাগে প্রায় ১০ থেকে ১১ মাস। ফলে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী জুলাইয়ে ৩০০ মেগাওয়াট এবং ডিসেম্বরের মধ্যে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যও পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তারা আশাবাদী যে চলতি মাসের শেষ নাগাদ জ্বালানি লোডিং শুরু করা সম্ভব হবে। তাদের দাবি, প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ, পরীক্ষা এবং পরিদর্শন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

অন্যদিকে, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেছেন, তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিসহ জ্বালানি খাতে রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞাজনিত কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ। মন্ত্রী আরও বলেন, বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন দেশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। জাতীয় গ্রিডে নতুন সক্ষমতা যোগ করতে দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়া জরুরি। সেই লক্ষ্যেই রূপপুর প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।