সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর থেকে লিবিয়া হয়ে গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে পাঁচ তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় মানব পাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে জগন্নাথপুর থানায় মানবপাচার ও প্রতারণা আইনে এই মামলাটি করেন নিহত আমিনুর রহমানের বাবা মো. হাবিবুর রহমান।
মামলার এজাহারে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গয়াসপুর গ্রামের মদরিছ মিয়ার ছেলে বিলাল মিয়া ও দুলাল মিয়া এবং জগন্নাথপুর উপজেলার ইছগাঁও গ্রামের মৃত মন্তাজ উদ্দিনের ছেলে আজিজুল ইসলামসহ মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া জসিম মিয়া ও এনাম নামের আরও দুই ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচয় ও ঠিকানা অজ্ঞাত থাকায় তাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উন্নত জীবনের প্রলোভনে গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে এই পাঁচ তরুণ দালালের খপ্পরে পড়ে দেশ ছাড়েন। তাদের নাম আমিনুর রহমান, ইজাজুল হক মনি, সায়েক আহমদ, মো. আলী আহমদ ও নাঈম মিয়া। জনপ্রতি ১১ থেকে ১৩ লাখ টাকা নিয়ে তাদের লিবিয়া থেকে একটি অনিরাপদ রাবার বোটে তুলে দেওয়া হয়। সাগরে পাঁচ-ছয় দিন ভাসমান থাকার পর খাবার ও পানির অভাবে তারা মারা যান। অভিযোগ রয়েছে, দালালদের নির্দেশেই তাদের মৃতদেহগুলো সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ অধ্যাদেশ অনুযায়ী মামলাটি রুজু করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং এই আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্রের শিকড় খুঁজে বের করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























