ঢাকা ০৭:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

মৌলভীবাজারে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি: ২৬ জনের মধ্যে ৬ জনের সংক্রমণ নিশ্চিত, স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক

গত এক মাস ধরে মৌলভীবাজার জেলায় হাম রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা শিশু থেকে বয়স্ক সকলকেই আক্রান্ত করছে। উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা ২৬ জনের মধ্যে প্রাথমিক ল্যাব পরীক্ষায় ছয়জনের শরীরে হামের জীবাণু শনাক্ত হয়েছে। বাকিদের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। আক্রান্তদের জন্য সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শিশুদের মধ্যে প্রথমে জ্বর, সর্দি ও কাশির লক্ষণ দেখা দিলেও পরবর্তীতে শরীরে লাল র্যাশ বা চিহ্ন দেখা যাচ্ছে, এমনকি চোখও লাল হয়ে যাচ্ছে। বয়স্কদের মধ্যেও কিছুটা এর প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাধারণত ৯ মাস বয়সে হামের প্রথম ডোজ টিকা এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে বর্তমানে তিন থেকে ছয় মাস বয়সি শিশুদের মধ্যেও হামের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, যা চিকিৎসকদের ভাবিয়ে তুলছে।

মৌলভীবাজার জেলায় এ পর্যন্ত বড়লেখায় দুজন, জুড়িতে একজন, কুলাউড়ায় চারজন, রাজনগরে তিনজন, শ্রীমঙ্গলে পাঁচজন, সদরে চারজন এবং ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সাতজন— এই মোট ২৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৬ জনের হাম পজেটিভ এসেছে এবং বাকিদের নমুনা পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

হামে আক্রান্ত দেলোয়ার হোসেন (৪৫) এবং এক বছর বয়সি এক শিশুর বাবা ইয়াছিন জানান, প্রথমে জ্বর, সর্দি, কাশি হলেও কয়েক দিনের মধ্যে গায়ে লালচে দাগ দেখা দেয়। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পর এখন তারা উন্নতির দিকে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এম এ হক পরামর্শ দিয়েছেন, যারা জ্বর, সর্দি, কাশি ও শরীরে র্যাশ নিয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন বা এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, তারা যেন দেরি না করে নিজে থেকে আইসোলেশনে যান অথবা দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করেন।

সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান বলেন, পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুরা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে সমস্যায় পড়ে, কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই রোগের তেমন ক্ষতির আশঙ্কা থাকে না। তিনি আরও জানান, প্রায় এক বছর ধরে স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্দোলনের কারণে মাঠে কাজ না করাতে এর প্রাদুর্ভাব কিছুটা বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে টিকার কোনো ঘাটতি ছিল না। ছয় মাসের কম বয়সিরা কেন আক্রান্ত হচ্ছে, তা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গবেষণা চালাচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

২৪ ঘণ্টায় হামে ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৭৮; স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্বেগ

মৌলভীবাজারে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি: ২৬ জনের মধ্যে ৬ জনের সংক্রমণ নিশ্চিত, স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক

আপডেট সময় : ০৪:০০:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

গত এক মাস ধরে মৌলভীবাজার জেলায় হাম রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা শিশু থেকে বয়স্ক সকলকেই আক্রান্ত করছে। উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা ২৬ জনের মধ্যে প্রাথমিক ল্যাব পরীক্ষায় ছয়জনের শরীরে হামের জীবাণু শনাক্ত হয়েছে। বাকিদের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। আক্রান্তদের জন্য সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শিশুদের মধ্যে প্রথমে জ্বর, সর্দি ও কাশির লক্ষণ দেখা দিলেও পরবর্তীতে শরীরে লাল র্যাশ বা চিহ্ন দেখা যাচ্ছে, এমনকি চোখও লাল হয়ে যাচ্ছে। বয়স্কদের মধ্যেও কিছুটা এর প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাধারণত ৯ মাস বয়সে হামের প্রথম ডোজ টিকা এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে বর্তমানে তিন থেকে ছয় মাস বয়সি শিশুদের মধ্যেও হামের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, যা চিকিৎসকদের ভাবিয়ে তুলছে।

মৌলভীবাজার জেলায় এ পর্যন্ত বড়লেখায় দুজন, জুড়িতে একজন, কুলাউড়ায় চারজন, রাজনগরে তিনজন, শ্রীমঙ্গলে পাঁচজন, সদরে চারজন এবং ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সাতজন— এই মোট ২৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৬ জনের হাম পজেটিভ এসেছে এবং বাকিদের নমুনা পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

হামে আক্রান্ত দেলোয়ার হোসেন (৪৫) এবং এক বছর বয়সি এক শিশুর বাবা ইয়াছিন জানান, প্রথমে জ্বর, সর্দি, কাশি হলেও কয়েক দিনের মধ্যে গায়ে লালচে দাগ দেখা দেয়। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পর এখন তারা উন্নতির দিকে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এম এ হক পরামর্শ দিয়েছেন, যারা জ্বর, সর্দি, কাশি ও শরীরে র্যাশ নিয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন বা এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, তারা যেন দেরি না করে নিজে থেকে আইসোলেশনে যান অথবা দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করেন।

সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান বলেন, পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুরা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে সমস্যায় পড়ে, কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই রোগের তেমন ক্ষতির আশঙ্কা থাকে না। তিনি আরও জানান, প্রায় এক বছর ধরে স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্দোলনের কারণে মাঠে কাজ না করাতে এর প্রাদুর্ভাব কিছুটা বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে টিকার কোনো ঘাটতি ছিল না। ছয় মাসের কম বয়সিরা কেন আক্রান্ত হচ্ছে, তা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গবেষণা চালাচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।