ঢাকা ১১:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বকাপে মানবাধিকার ঝুঁকি: অ্যামনেস্টির উদ্বেগ

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে যে, এবারের বিশ্বকাপ ‘দমন-পীড়নের মঞ্চে’ পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে যৌথভাবে আয়োজিত হতে যাওয়া ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর হতে চলেছে। তবে ‘হিউম্যান মাস্ট উইন’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি আয়োজক দেশগুলোর প্রতি ভক্ত, খেলোয়াড় এবং সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, এই টুর্নামেন্ট এমন একটি প্ল্যাটফর্ম হবে যেখানে প্রত্যেকে নিজেদের ‘নিরাপদ, অন্তর্ভুক্ত এবং অধিকার প্রয়োগে স্বাধীন’ অনুভব করবে। কিন্তু অ্যামনেস্টির দাবি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতি এই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেখানে টুর্নামেন্টের একটি বড় অংশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘মানবাধিকার জরুরি অবস্থার’ সম্মুখীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থাটির মতে, গণহারে নির্বাসন, নির্বিচারে গ্রেপ্তার এবং অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর ‘আধাসামরিক ধাঁচের’ কার্যক্রম উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

আইসিই-কে বিশ্বকাপের নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ করার পরিকল্পনাও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সম্প্রতি বলেছেন যে, ‘এই সংস্থাটি বিশ্বকাপের সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে যাচ্ছে।’ তবে মিনিয়াপোলিসে আইসিই-এর অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সম্প্রতি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। অ্যামনেস্টি বলছে, আয়োজক দেশগুলো এখনো ব্যাখ্যা করেনি কীভাবে এই সংস্থার কার্যক্রম থেকে ভক্ত ও স্থানীয়দের সুরক্ষা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আইভরি কোস্ট, হাইতি, ইরান ও সেনেগালের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায়ের অনেক সমর্থকও নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়েছেন।

তবে ফিফা জানিয়েছে যে, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এছাড়া, গত ডিসেম্বরে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘শান্তি পুরস্কার’ দেওয়ার ঘটনাতেও সমালোচনার মুখে পড়েছে ফিফা। অ্যামনেস্টির অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার বিভাগের প্রধান স্টিভ কুকবার্ন বলেছেন, ‘বিশ্বকাপ থেকে ফিফা’ (অসম্পূর্ণ তথ্য)।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রেণিকক্ষ বনাম কোচিং: একটি ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থার সন্ধানে

বিশ্বকাপে মানবাধিকার ঝুঁকি: অ্যামনেস্টির উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০৭:৩২:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে যে, এবারের বিশ্বকাপ ‘দমন-পীড়নের মঞ্চে’ পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে যৌথভাবে আয়োজিত হতে যাওয়া ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর হতে চলেছে। তবে ‘হিউম্যান মাস্ট উইন’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি আয়োজক দেশগুলোর প্রতি ভক্ত, খেলোয়াড় এবং সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, এই টুর্নামেন্ট এমন একটি প্ল্যাটফর্ম হবে যেখানে প্রত্যেকে নিজেদের ‘নিরাপদ, অন্তর্ভুক্ত এবং অধিকার প্রয়োগে স্বাধীন’ অনুভব করবে। কিন্তু অ্যামনেস্টির দাবি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতি এই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেখানে টুর্নামেন্টের একটি বড় অংশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘মানবাধিকার জরুরি অবস্থার’ সম্মুখীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থাটির মতে, গণহারে নির্বাসন, নির্বিচারে গ্রেপ্তার এবং অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর ‘আধাসামরিক ধাঁচের’ কার্যক্রম উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

আইসিই-কে বিশ্বকাপের নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ করার পরিকল্পনাও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সম্প্রতি বলেছেন যে, ‘এই সংস্থাটি বিশ্বকাপের সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে যাচ্ছে।’ তবে মিনিয়াপোলিসে আইসিই-এর অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সম্প্রতি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। অ্যামনেস্টি বলছে, আয়োজক দেশগুলো এখনো ব্যাখ্যা করেনি কীভাবে এই সংস্থার কার্যক্রম থেকে ভক্ত ও স্থানীয়দের সুরক্ষা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আইভরি কোস্ট, হাইতি, ইরান ও সেনেগালের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায়ের অনেক সমর্থকও নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়েছেন।

তবে ফিফা জানিয়েছে যে, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এছাড়া, গত ডিসেম্বরে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘শান্তি পুরস্কার’ দেওয়ার ঘটনাতেও সমালোচনার মুখে পড়েছে ফিফা। অ্যামনেস্টির অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার বিভাগের প্রধান স্টিভ কুকবার্ন বলেছেন, ‘বিশ্বকাপ থেকে ফিফা’ (অসম্পূর্ণ তথ্য)।