সারাদেশে জ্বালানি তেলের ডিপোগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। সম্ভাব্য মজুতদারি, নাশকতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এড়াতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সিলেট ও পার্শ্ববর্তী জেলা মৌলভীবাজারসহ দেশের মোট ১৯টি জ্বালানি ডিপোতে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
শনিবার থেকে সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ পদ্মা ও মেঘনা ডিপোতে বিজিবির সদস্যরা কাজ শুরু করেছেন। প্রতিটি স্থানে একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে টহল ও সার্বিক তদারকি চালানো হচ্ছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। বিজিবি ১৯ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুবায়ের আনোয়ার জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সিলেটের পদ্মা ও মেঘনা ডিপোতে দুই প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
ইউনিট সদর থেকে দূরবর্তী স্থানে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে নিরাপদ স্থানে অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। গত ২৫ মার্চ সকাল থেকে সিলেট জেলায় ২টি, মৌলভীবাজার জেলায় ৩টি এবং সুনামগঞ্জ জেলায় ১টি ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া, ডিপোর নিরাপত্তার পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার রোধেও জোর তৎপরতা চলছে। সীমান্ত এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে এবং ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ও ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশনে পণ্যবাহী যানবাহনে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
তবে তেলের ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর, এজেন্ট এন্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ব্যারিস্টার রিয়াশাদ আজিম হক আদনান। তিনি বলেন, ডিপোতে নিরাপত্তার কথা শুনে জনমনে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। তার মতে, প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাকে সরবরাহের সময় তেল চুরির চোরাই পয়েন্টগুলো খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, যা প্রশাসনের দায়িত্ব। বিজিবিকে সীমান্তে তেল পাচার রোধে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এদিকে, সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট নিয়ে গুজব ঠেকাতে এবং পাম্প পর্যায়ে সুষ্ঠু সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনও ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে তদারকির জন্য ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























