নেসকো কোম্পানির জোরপূর্বক প্রিপেইড মিটার স্থাপন এবং গ্রাহকদের ওপর অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের বোঝা চাপানোর প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজশাহীর গোদাগাড়ী। শনিবার সকালে ডাইংপাড়া গোলচত্বরে গোদাগাড়ী নাগরিক স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির আয়োজনে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত শত ভুক্তভোগী মানুষ অংশ নিয়ে তাদের ক্ষোভ ও ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন।
প্রতিবাদের এক অভিনব প্রতীক হিসেবে অংশগ্রহণকারীরা মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে তাদের দাবি উপস্থাপন করেন। মানববন্ধনে প্রদর্শিত ব্যানারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আকুল আবেদন জানিয়ে লেখা ছিল, ‘আমাদের ন্যায্য দাবি মেনে নিন; নয়তো আমাদের হত্যা করে বঙ্গোপসাগরে ভাসিয়ে দিন।’ এই মর্মস্পর্শী স্লোগান উপস্থিত সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, নেসকো কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক প্রিপেইড মিটার স্থাপন করছে। এরপর এই মিটার ব্যবহার করে গ্রাহকদের কাছ থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে তিনগুণ পর্যন্ত বেশি বিল আদায় করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য চরম আর্থিক সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক পরিবার বিদ্যুৎ ব্যবহার সীমিত করতে বাধ্য হচ্ছে এবং এটি তাদের ওপর এক ধরনের আর্থিক নির্যাতন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে প্রিপেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রম বন্ধ এবং অতিরিক্ত বিল প্রত্যাহারের জোরালো দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কামনা করে বক্তারা বলেন, ‘আমাদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়া না হলে আমাদের বাঁচার পথ নেই।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন গোদাগাড়ী নাগরিক স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালাহ উদ্দীন বিশ্বাস, সহসভাপতি অধ্যাপক মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক বরজাহান আলী পিন্টু, নাগরিক কমিটির সভাপতি শান্ত কুমার মজুমদার, গোদাগাড়ী যুবদলের আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর মাহবুবর রহমান বিপ্লব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর শহিদুল ইসলাম, সমাজ ও মানবকল্যাণ সংস্থার মহাসচিব নুরে আলম ওয়াহিদ, প্রতিবন্ধী অধিকার উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বক্তারা দ্রুত দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন।
রিপোর্টারের নাম 

























