মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় পৃথক স্থান থেকে এক মাইক্রোচালক ও এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে ও ভোরে এই দুটি ঘটনা ঘটে, যা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার খালিয়া গাঙ্গুলিবাড়ি এলাকায় বাড়ির উঠানের একটি কাঁঠালগাছের মগডালে ঝুলন্ত অবস্থায় মাইক্রোচালক আরিফ শেখের (৩০) লাশ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। তিনি মৃত সাহেব আলী শেখের বড় ছেলে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা পারিবারিক কলহের জেরেই আরিফ আত্মহত্যা করেছেন।
নিহত আরিফের ছেলে আরাফাত শেখ জানান, তার বাবা প্রথমে লাকি বেগমকে বিয়ে করেন এবং পরে কনা বেগমকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এই দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই পরিবারে অশান্তি লেগেই ছিল। পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন। রাজৈর থানার তদন্ত কর্মকর্তা কুতুবউদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় প্রায় ৪০ ফুট উঁচু কাঁঠালগাছের মগডাল থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে একই দিনে উপজেলার ইশিবপুর ইউনিয়নের শাখারপাড়া (গাংকান্দি) গ্রামে গৃহবধূ রুমি আক্তারের (৩০) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি আলী হোসেন মাতুব্বরের মেয়ে এবং শিপন মোল্লার স্ত্রী।
পুলিশ জানায়, শনিবার ভোর ৫টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় রুমি আক্তারের লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক ধারণা, রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টার মধ্যে যেকোনো সময় তিনি আত্মহত্যা করেছেন। নিহত রুমি তিনটি সন্তানের জননী ছিলেন।
তবে নিহতের বাবা আলী মাতুব্বর অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়ের সংসারে অশান্তি চলছিল এবং তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। রাজৈর থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ জানিয়েছে, পৃথক দুটি ঘটনাতেই আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























