মানিকগঞ্জে চাঞ্চল্যকর মাথাবিহীন লাশ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তারা জানিয়েছে, অটোচালক রফিক মিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তার অটো গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
শনিবার (২৭ মে) মানিকগঞ্জ জেলা পিবিআই কার্যালয়ে এক প্রেস কনফারেন্সে পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে রিপন মিয়া, আরমান হোসেন এবং সজীবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার কথা স্বীকার করেছে।
পিবিআইয়ের তথ্যমতে, ঘটনার দিন (২৪ মার্চ) অভিযুক্তরা রফিক মিয়াকে নবগ্রাম ইউনিয়নের পাঁচ বারইল এলাকার কালিগঙ্গা নদীর তীরে নিয়ে যায়। সেখানে মাদক সেবনের কথা বলে তাকে ফাঁদে ফেলে। এরপর পেছন থেকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে তাকে অচেতন করা হয় এবং ধারালো দা দিয়ে জবাই করে মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়।
হত্যার পর অভিযুক্তরা লাশ ও মাথা আলাদাভাবে কালিগঙ্গা নদীতে ফেলে দেয়। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল রফিকের অটো গাড়িটি ছিনিয়ে নেওয়া, যা পরবর্তীতে পিবিআই উদ্ধার করেছে। এর আগে, গত মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) বিকেলে কালিগঙ্গা নদীর তীরে একটি মাথাবিহীন লাশ ভেসে উঠলে সেটি উদ্ধার করা হয়। নিহতের ভাই আরিফ মিয়া ও স্ত্রী জেসমিন আক্তার লাশটি রফিক মিয়ার বলে শনাক্ত করেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
পিবিআই জানিয়েছে, রফিকের দেহ উদ্ধার হলেও মাথা এখনো উদ্ধার করা যায়নি। এজন্য কালিগঙ্গা নদীতে ডুবুরি দলের মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনায় নিহতের ভাই আরিফ মিয়া বাদী হয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। উল্লেখ্য, নিহত রফিক মিয়ার বাড়ি ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের রাথুরা গ্রামে।
রিপোর্টারের নাম 
























