ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য ইরান পাঁচটি সুনির্দিষ্ট শর্ত উত্থাপন করেছে বলে জানা গেছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে এই সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। হিব্রু ভাষার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এই খবর প্রকাশ করেছে।
চ্যানেল ১২-এর একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ঘোষিত পরোক্ষ আলোচনার অংশ হিসেবেই ইরান এই কঠোর শর্তগুলো উপস্থাপন করেছে। এই শর্তগুলো মূলত সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের নিশ্চয়তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ পুনরায় শুরু না হওয়ার ব্যাপারে লিখিত নিশ্চয়তা চায়। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালীতে একটি নতুন ব্যবস্থার দাবি তুলেছে ইরান, যার ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জলপথ কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এটি হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও নৌচলাচলের উপর ইরানের প্রভাবকে আরও সুসংহত করবে।
ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মোতায়েন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো অবিলম্বে বন্ধ করার দাবিও জানিয়েছে। এছাড়া, যুদ্ধের ফলে ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য তারা আর্থিক ক্ষতিপূরণ চেয়েছে। এটি ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রভাব এবং যুদ্ধের ধ্বংসলীলার ক্ষতিপূরণের দাবিকে নির্দেশ করে।
সবশেষে, ইরান বিদ্বেষপূর্ণ সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে জড়িত ব্যক্তি বা সাংবাদিকদের হয় ইরান কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে হবে অথবা তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এর পূর্বে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সঙ্গে আলোচনার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এখন ইরান এই বিষয়ে ‘গুরুত্ব দিচ্ছে’। তবে ইরানের এই নতুন শর্তাবলী আলোচনার পথকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 




















