ঢাকা ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

বিদ্যুৎ ও পানি অবকাঠামোতে ইরানি হামলার হুমকি: চরম ঝুঁকিতে উপসাগরীয় দেশগুলো

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমাগত বাড়তে থাকা উত্তেজনার পারদ এখন বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের মতো মৌলিক অবকাঠামোর ওপর আঘাত হানার হুমকিতে মোড় নিয়েছে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো হামলা হলে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তারা উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানাবে। এই হুমকির ফলে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং কুয়েতের মতো দেশগুলোর বড় শহরগুলোতে ব্যাপক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর বিদ্যুৎ গ্রিড একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সংযুক্ত। ফলে একটি দেশে বড় ধরনের হামলা হলে পুরো অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। শুধু তাই নয়, এই অঞ্চলের সুপেয় পানির বড় অংশই আসে সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ বা ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট থেকে, যা সরাসরি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে দ্রুতই ভয়াবহ পানি ও মানবিক সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হুমকির মাধ্যমে ইরান মূলত মার্কিন প্রশাসন ও তার মিত্রদের একটি কড়া বার্তা দিতে চাইছে। যুদ্ধের খরচ যে শুধু ইরানকেই নয়, বরং পুরো অঞ্চলকেই বহন করতে হবে—সেই কৌশলগত অবস্থানই এখানে স্পষ্ট। হাসপাতাল, বিমানবন্দর ও যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো অপরিহার্য খাতগুলো অচল করে দেওয়ার মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে চূড়ান্ত যুদ্ধের সিদ্ধান্ত থেকে বিরত রাখাই তেহরানের মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের দিকে আরও একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী

বিদ্যুৎ ও পানি অবকাঠামোতে ইরানি হামলার হুমকি: চরম ঝুঁকিতে উপসাগরীয় দেশগুলো

আপডেট সময় : ০৯:৩৮:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমাগত বাড়তে থাকা উত্তেজনার পারদ এখন বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের মতো মৌলিক অবকাঠামোর ওপর আঘাত হানার হুমকিতে মোড় নিয়েছে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো হামলা হলে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তারা উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানাবে। এই হুমকির ফলে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং কুয়েতের মতো দেশগুলোর বড় শহরগুলোতে ব্যাপক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর বিদ্যুৎ গ্রিড একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সংযুক্ত। ফলে একটি দেশে বড় ধরনের হামলা হলে পুরো অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। শুধু তাই নয়, এই অঞ্চলের সুপেয় পানির বড় অংশই আসে সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ বা ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট থেকে, যা সরাসরি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে দ্রুতই ভয়াবহ পানি ও মানবিক সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হুমকির মাধ্যমে ইরান মূলত মার্কিন প্রশাসন ও তার মিত্রদের একটি কড়া বার্তা দিতে চাইছে। যুদ্ধের খরচ যে শুধু ইরানকেই নয়, বরং পুরো অঞ্চলকেই বহন করতে হবে—সেই কৌশলগত অবস্থানই এখানে স্পষ্ট। হাসপাতাল, বিমানবন্দর ও যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো অপরিহার্য খাতগুলো অচল করে দেওয়ার মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে চূড়ান্ত যুদ্ধের সিদ্ধান্ত থেকে বিরত রাখাই তেহরানের মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।