ইসরায়েলের ওপর দফায় দফায় শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান, যা দেশটির বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানি ঘটাচ্ছে। একের পর এক ব্যালিস্টিক মিসাইলের আঘাতে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার ফলে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে। হতাহতের তথ্য প্রকাশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও, এরই মধ্যে অন্তত ছয়জন নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার (২১ মার্চ) ইসরায়েলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শহর ডিমোনা ও আরাদে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। এই হামলায় কয়েক ডজন ভবন ধসে পড়েছে, স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে এবং অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন ছাড়া অন্য কোনো শব্দ শোনা যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।
তবে উগ্র ইহুদিবাদীরা এতেও নিস্তার পাচ্ছে না। ইরান তাদের প্রতিশোধমূলক হামলা অব্যাহত রেখেছে। কিছুক্ষণ পরপর ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে সাইরেন বাজছে এবং নাগরিকদের মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠানো হচ্ছে। ইসরায়েলি আর্মি রেডিওর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিমোনা ও আরাদ শহরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর প্রায় ১৫০ জন আহত ব্যক্তি সোরোকা মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা নিতে এসেছেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, কিছুক্ষণ আগে ইরান তাদের লক্ষ্য করে নতুন এক দফা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, ধেয়ে আসা এই হুমকি মোকাবিলায় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মধ্য ইসরায়েলেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরান থেকে ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই এই বিস্ফোরণগুলো ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর জানা না গেলেও পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে যে, তারা ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে ছোড়া নতুন এক দফা ক্ষেপণাস্ত্র ঢেউ শনাক্ত করেছে। গত এক ঘণ্টার মধ্যে এটি এ ধরনের দ্বিতীয় সতর্কবার্তা ছিল। ইসরায়েলি হোম ফ্রন্ট কমান্ড জানিয়েছে, মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে ইরানের প্রথম দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় একটি আঘাতের খবরের পর উদ্ধারকারী দলগুলো মধ্য ইসরায়েলের দিকে রওনা হয়েছে। চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হলোন শহরেও আঘাত হেনেছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, এতে অন্তত একজন আহত হয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 























