ঢাকা ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

ইতালিতে বিচারব্যবস্থা সংস্কার নিয়ে গণভোট: মেলোনির জন্য কঠিন পরীক্ষা

ইতালির বিচারব্যবস্থা সংস্কারের বিষয়ে রোববার থেকে দেশজুড়ে দুই দিনব্যাপী গণভোট শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এই সংস্কারের জোর সমর্থক। তার দাবি, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের বিচারব্যবস্থা আরও স্বাধীন, আধুনিক এবং কার্যকর হবে। তবে সমালোচকরা বলছেন, প্রস্তাবিত এই সংস্কার বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।

এই গণভোটকে কেবল একটি সংস্কার প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখা হচ্ছে না, বরং এটি আসন্ন নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী মেলোনির নেতৃত্ব ও জনপ্রিয়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিচারক ও প্রসিকিউটরের কার্যক্রম পৃথক করা হবে এবং তাদের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে সংবিধানে সংশোধনী আনা হবে। মেলোনি এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, এই সংস্কার বিচারব্যবস্থাকে মেধাভিত্তিক, স্বায়ত্তশাসিত, জবাবদিহিমূলক এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করবে।

অন্যদিকে, বিরোধীরা এই প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করছেন। তাদের মতে, এটি রাজনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধির একটি অপচেষ্টা। মধ্য-বামপন্থী ডেমোক্রেটিক পার্টির নেত্রী এলি শ্লাইন মন্তব্য করেছেন, প্রস্তাবটি দুর্বলভাবে প্রণীত এবং এটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

জনমত জরিপ অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ শিবিরের সমর্থন প্রায় সমান অবস্থানে রয়েছে, যা ফলাফলের অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। যদি ‘না’ জয়ী হয়, তবে এটি মেলোনির জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হবে। যদিও তিনি জানিয়েছেন, ফলাফল যাই হোক, তিনি পদত্যাগের কোনো পরিকল্পনা করছেন না। সোমবার (গ্রিনিচ মান সময় ১৪:০০) ভোটগ্রহণ শেষ হবে এবং একই দিন প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করা হতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্রদলের হামলা ও হয়রানির প্রতিবাদে ঢাবিতে শিবিরের বিক্ষোভ

ইতালিতে বিচারব্যবস্থা সংস্কার নিয়ে গণভোট: মেলোনির জন্য কঠিন পরীক্ষা

আপডেট সময় : ০৫:৩১:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

ইতালির বিচারব্যবস্থা সংস্কারের বিষয়ে রোববার থেকে দেশজুড়ে দুই দিনব্যাপী গণভোট শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এই সংস্কারের জোর সমর্থক। তার দাবি, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের বিচারব্যবস্থা আরও স্বাধীন, আধুনিক এবং কার্যকর হবে। তবে সমালোচকরা বলছেন, প্রস্তাবিত এই সংস্কার বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।

এই গণভোটকে কেবল একটি সংস্কার প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখা হচ্ছে না, বরং এটি আসন্ন নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী মেলোনির নেতৃত্ব ও জনপ্রিয়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিচারক ও প্রসিকিউটরের কার্যক্রম পৃথক করা হবে এবং তাদের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে সংবিধানে সংশোধনী আনা হবে। মেলোনি এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, এই সংস্কার বিচারব্যবস্থাকে মেধাভিত্তিক, স্বায়ত্তশাসিত, জবাবদিহিমূলক এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করবে।

অন্যদিকে, বিরোধীরা এই প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করছেন। তাদের মতে, এটি রাজনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধির একটি অপচেষ্টা। মধ্য-বামপন্থী ডেমোক্রেটিক পার্টির নেত্রী এলি শ্লাইন মন্তব্য করেছেন, প্রস্তাবটি দুর্বলভাবে প্রণীত এবং এটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

জনমত জরিপ অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ শিবিরের সমর্থন প্রায় সমান অবস্থানে রয়েছে, যা ফলাফলের অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। যদি ‘না’ জয়ী হয়, তবে এটি মেলোনির জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হবে। যদিও তিনি জানিয়েছেন, ফলাফল যাই হোক, তিনি পদত্যাগের কোনো পরিকল্পনা করছেন না। সোমবার (গ্রিনিচ মান সময় ১৪:০০) ভোটগ্রহণ শেষ হবে এবং একই দিন প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করা হতে পারে।