ঢাকা ০৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

ভূ-রাজনৈতিক খেলায় ইরান: জাপানের জন্য বিশেষ প্রস্তাব ও আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা শিথিল

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইরান এক যুগান্তকারী কূটনৈতিক চাল চেলেছে। মার্কিন মিত্র জাপানের জন্য এক বিশেষ প্রস্তাব পেশ করে তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার সাময়িক শিথিলতা এশিয়ার দেশগুলোকে, বিশেষ করে ভারতকে, পুনরায় ইরানি তেল আমদানির পথ খুলে দিয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, তিনি জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। এই বৈঠকে তেহরান টোকিওকে একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় প্রস্তাব দিয়েছে, যা অনুযায়ী জাপানি পতাকাবাহী জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালিতে কোনো প্রকার নিরাপত্তা ঝুঁকি বা বাধার সম্মুখীন না হয়ে অবাধে চলাচল করতে পারবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরানের একটি অত্যন্ত সুচিন্তিত ও দূরদর্শী কৌশল। যুক্তরাষ্ট্র তার প্রধান মিত্রদের, যার মধ্যে জাপানও রয়েছে, হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখতে সামরিক শক্তি প্রয়োগের জন্য অনুরোধ করেছে। ইরান অবগত আছে যে, জাপানি যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি সরাসরি তাদের সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত হওয়ার শামিল। যদিও জাপানি প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে গিয়ে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ‘হামলার’ নিন্দা জানিয়েছেন, তেহরানের এই বিশেষ প্রস্তাব জাপানিদের মার্কিন সামরিক জোটে যোগ দেওয়া থেকে বিরত রাখতে একটি প্রলোভন হিসেবে কাজ করছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরান বিশ্বকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে: প্রথমত, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখনো তাদের হাতেই রয়েছে; এবং দ্বিতীয়ত, যারা তাদের সঙ্গে সংঘাতে জড়াবে না, তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে।

অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং আসন্ন অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কায় ট্রাম্প প্রশাসন একটি অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ সমুদ্রপথে থাকা ইরানি তেলের ওপর ৩০ দিনের জন্য একটি বিশেষ ‘সেফ প্যাসেজ’ বা ছাড় ঘোষণা করেছে। এই সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে আগ্রহী ভারতের বৃহৎ তেল শোধনাগারগুলো। রয়টার্সের এক সূত্রমতে, ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন সহ বেশ কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি শোধনাগার ইতিমধ্যে এই তেলের কার্গো বুক করার প্রস্তুতি শুরু করেছে। মার্কিন ‘অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল’ (ওএফএসি)-এর নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০ মার্চের আগে লোড করা প্রায় ১৭০ মিলিয়ন ব্যারেল ইরানি তেল এখন আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির জন্য উন্মুক্ত হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ন্যাটো মিত্রদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর মনোভাব: সহায়তা না দেওয়ায় শাস্তির ভাবনা

ভূ-রাজনৈতিক খেলায় ইরান: জাপানের জন্য বিশেষ প্রস্তাব ও আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা শিথিল

আপডেট সময় : ০৬:১৮:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইরান এক যুগান্তকারী কূটনৈতিক চাল চেলেছে। মার্কিন মিত্র জাপানের জন্য এক বিশেষ প্রস্তাব পেশ করে তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার সাময়িক শিথিলতা এশিয়ার দেশগুলোকে, বিশেষ করে ভারতকে, পুনরায় ইরানি তেল আমদানির পথ খুলে দিয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, তিনি জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। এই বৈঠকে তেহরান টোকিওকে একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় প্রস্তাব দিয়েছে, যা অনুযায়ী জাপানি পতাকাবাহী জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালিতে কোনো প্রকার নিরাপত্তা ঝুঁকি বা বাধার সম্মুখীন না হয়ে অবাধে চলাচল করতে পারবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরানের একটি অত্যন্ত সুচিন্তিত ও দূরদর্শী কৌশল। যুক্তরাষ্ট্র তার প্রধান মিত্রদের, যার মধ্যে জাপানও রয়েছে, হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখতে সামরিক শক্তি প্রয়োগের জন্য অনুরোধ করেছে। ইরান অবগত আছে যে, জাপানি যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি সরাসরি তাদের সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত হওয়ার শামিল। যদিও জাপানি প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে গিয়ে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ‘হামলার’ নিন্দা জানিয়েছেন, তেহরানের এই বিশেষ প্রস্তাব জাপানিদের মার্কিন সামরিক জোটে যোগ দেওয়া থেকে বিরত রাখতে একটি প্রলোভন হিসেবে কাজ করছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরান বিশ্বকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে: প্রথমত, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখনো তাদের হাতেই রয়েছে; এবং দ্বিতীয়ত, যারা তাদের সঙ্গে সংঘাতে জড়াবে না, তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে।

অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং আসন্ন অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কায় ট্রাম্প প্রশাসন একটি অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ সমুদ্রপথে থাকা ইরানি তেলের ওপর ৩০ দিনের জন্য একটি বিশেষ ‘সেফ প্যাসেজ’ বা ছাড় ঘোষণা করেছে। এই সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে আগ্রহী ভারতের বৃহৎ তেল শোধনাগারগুলো। রয়টার্সের এক সূত্রমতে, ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন সহ বেশ কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি শোধনাগার ইতিমধ্যে এই তেলের কার্গো বুক করার প্রস্তুতি শুরু করেছে। মার্কিন ‘অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল’ (ওএফএসি)-এর নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০ মার্চের আগে লোড করা প্রায় ১৭০ মিলিয়ন ব্যারেল ইরানি তেল এখন আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির জন্য উন্মুক্ত হয়েছে।