ঢাকা ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা নিরসনে জাতিসংঘের বিশেষ উদ্যোগ

ইরানে চলমান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা নিরসনে জাতিসংঘ একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। তবে, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা এবং তার গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে গুতেরেস একটি যুগান্তকারী প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের সময় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ‘ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ’ বা কৃষ্ণসাগরীয় শস্য চুক্তির মাধ্যমে যেভাবে খাদ্য সরবরাহ সচল রাখা হয়েছিল, হরমুজ প্রণালীর ক্ষেত্রেও জাতিসংঘ একই ধরনের মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত। তিনি জানান, ‘আমার প্রধান লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালিতে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যা অতীতে বিদ্যমান ছিল। আমরা ইতিমধ্যে এই বিষয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর পাশাপাশি ইউরোপীয় কাউন্সিলের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু করেছি।’ জাতিসংঘের এই উদ্যোগ সফল হলে যুদ্ধের মধ্যেও জ্বালানি ও খাদ্যবাহী জাহাজগুলো নিরাপদে চলাচল করতে পারবে, যা বিশ্ববাজারে অস্থিরতা কমাতে সহায়ক হবে।

জাতিসংঘ মহাসচিব সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টের শান্তি প্রচেষ্টার সমালোচনা করে বলেন, ট্রাম্পের একক নেতৃত্বে নেওয়া উদ্যোগগুলো বর্তমানের জটিল সমস্যা সমাধানের জন্য কোনো ‘কার্যকর পথ’ নয়। গুতেরেসের মতে, ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ মূলত একটি ‘পার্সোনাল প্রজেক্ট’ বা ব্যক্তিগত প্রকল্প, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা বা আন্তর্জাতিক আইনের চেয়ে প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত ইচ্ছাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যদিও গুতেরেস ট্রাম্পের একক আধিপত্যের সমালোচনা করেছেন, তবুও তিনি জানিয়েছেন, জাতিসংঘ ‘বোর্ড অব পিস’-এর তৈরি করা কিছু কাঠামোর সঙ্গে ‘সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা’ করছে, বিশেষ করে গাজা পুনর্গঠনের লক্ষ্যটি যেহেতু নিরাপত্তা পরিষদ দ্বারা অনুমোদিত। তবে, ইরান সংকটের ক্ষেত্রে কোনো সমন্বিত বৈশ্বিক পরিকল্পনার অভাব এবং ট্রাম্পের ‘একলা চলো’ নীতি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অচলাবস্থা তৈরি করেছে বলে তিনি মনে করেন। এদিকে, হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং বেশ কিছু ইউরোপীয় দেশ সরাসরি তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ন্যাটো মিত্রদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর মনোভাব: সহায়তা না দেওয়ায় শাস্তির ভাবনা

হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা নিরসনে জাতিসংঘের বিশেষ উদ্যোগ

আপডেট সময় : ০৬:১৩:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

ইরানে চলমান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা নিরসনে জাতিসংঘ একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। তবে, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা এবং তার গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে গুতেরেস একটি যুগান্তকারী প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের সময় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ‘ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ’ বা কৃষ্ণসাগরীয় শস্য চুক্তির মাধ্যমে যেভাবে খাদ্য সরবরাহ সচল রাখা হয়েছিল, হরমুজ প্রণালীর ক্ষেত্রেও জাতিসংঘ একই ধরনের মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত। তিনি জানান, ‘আমার প্রধান লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালিতে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যা অতীতে বিদ্যমান ছিল। আমরা ইতিমধ্যে এই বিষয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর পাশাপাশি ইউরোপীয় কাউন্সিলের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু করেছি।’ জাতিসংঘের এই উদ্যোগ সফল হলে যুদ্ধের মধ্যেও জ্বালানি ও খাদ্যবাহী জাহাজগুলো নিরাপদে চলাচল করতে পারবে, যা বিশ্ববাজারে অস্থিরতা কমাতে সহায়ক হবে।

জাতিসংঘ মহাসচিব সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টের শান্তি প্রচেষ্টার সমালোচনা করে বলেন, ট্রাম্পের একক নেতৃত্বে নেওয়া উদ্যোগগুলো বর্তমানের জটিল সমস্যা সমাধানের জন্য কোনো ‘কার্যকর পথ’ নয়। গুতেরেসের মতে, ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ মূলত একটি ‘পার্সোনাল প্রজেক্ট’ বা ব্যক্তিগত প্রকল্প, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা বা আন্তর্জাতিক আইনের চেয়ে প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত ইচ্ছাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যদিও গুতেরেস ট্রাম্পের একক আধিপত্যের সমালোচনা করেছেন, তবুও তিনি জানিয়েছেন, জাতিসংঘ ‘বোর্ড অব পিস’-এর তৈরি করা কিছু কাঠামোর সঙ্গে ‘সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা’ করছে, বিশেষ করে গাজা পুনর্গঠনের লক্ষ্যটি যেহেতু নিরাপত্তা পরিষদ দ্বারা অনুমোদিত। তবে, ইরান সংকটের ক্ষেত্রে কোনো সমন্বিত বৈশ্বিক পরিকল্পনার অভাব এবং ট্রাম্পের ‘একলা চলো’ নীতি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অচলাবস্থা তৈরি করেছে বলে তিনি মনে করেন। এদিকে, হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং বেশ কিছু ইউরোপীয় দেশ সরাসরি তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে।