ঢাকা ০৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

গ্যাস সংকটে ভারতের পোশাক শিল্পে ধস, কারখানা বন্ধের উপক্রম

ভারতের অন্যতম প্রধান শিল্পকেন্দ্র গুজরাটের সুরাট বর্তমানে এক ভয়াবহ গ্যাস সংকটের সম্মুখীন। দেশটির পোশাক শিল্পের কেন্দ্রভূমি হিসেবে পরিচিত সুরাটের বিশাল টেক্সটাইল শিল্প পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাবে সৃষ্ট এলপিজি গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। রান্নার গ্যাসের অভাবে হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক শহর ছেড়ে চলে যেতে শুরু করায় ভারতের এই গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাত গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

সুরাটের টেক্সটাইল কারখানাগুলোর প্রাণশক্তি হলো উত্তর প্রদেশ, বিহার ও ওডিশা থেকে আসা লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক। বিগত কয়েক দিন ধরে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকটের কারণে এই শ্রমিকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। রান্নার গ্যাসের অভাবে অনাহারে থাকা শ্রমিকেরা দল বেঁধে সুরাটের উধনা রেলস্টেশনে জড়ো হচ্ছেন তাদের নিজ গ্রামে ফিরে যাওয়ার জন্য।

‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, শ্রমিকের অভাবে অনেক কারখানা ইতিমধ্যে সপ্তাহে এক বা দুই দিন উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক ছোট ও মাঝারি শিল্প ইউনিট সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। টেক্সটাইল ব্যবসায়ীদের মতে, শ্রমিকদের এই গণহারে শহর ত্যাগ অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাজারে ভারতের কাপড়ের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।

সুরাটের শ্রমিক কলোনিগুলোতে রান্নার গ্যাসের জন্য হাহাকার চলছে। ১৫ দিন ধরে লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। এই সুযোগে কালোবাজারে প্রতি কেজি এলপিজি ৫০০ রুপি পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। পাঁচ কেজি ওজনের ছোট সিলিন্ডার, যা সাধারণত ৫০০ রুপিতে পাওয়া যেত, এখন তা আড়াই হাজার রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। সীমা দেবী নামে এক নারী শ্রমিক ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে জানান, ‘সাত দিন আগে আমাদের গ্যাস শেষ হয়ে গেছে। কাঠের চুলায় রান্না করার অনুমতি নেই। জমানো টাকাও শেষ হয়ে আসছে, তাই সন্তানদের নিয়ে গ্রামে ফিরে যাচ্ছি।’ অনেক শ্রমিকই জানিয়েছেন, কাজ থাকা সত্ত্বেও কেবল খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার জন্য তারা শহর ছাড়ছেন।

ভারতের মোট এলপিজি আমদানির সিংহভাগ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকা এবং পারস্য উপসাগরে অস্থিরতার কারণে এলপিজি সরবরাহ ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ভারত সরকার বিকল্প ব্যবস্থা করার চেষ্টা করলেও সমুদ্রপথে এলপিজি পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় এই সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। টেক্সটাইল বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সুরাট থেকে শ্রমিকদের এই গণপ্রস্থান দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজার এবং রপ্তানি—উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে সামনে উৎসবের মৌসুম থাকায় কাপড়ের চাহিদা বাড়বে, যা পূরণে বড় ধরণের প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ন্যাটো মিত্রদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর মনোভাব: সহায়তা না দেওয়ায় শাস্তির ভাবনা

গ্যাস সংকটে ভারতের পোশাক শিল্পে ধস, কারখানা বন্ধের উপক্রম

আপডেট সময় : ০৫:০৯:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

ভারতের অন্যতম প্রধান শিল্পকেন্দ্র গুজরাটের সুরাট বর্তমানে এক ভয়াবহ গ্যাস সংকটের সম্মুখীন। দেশটির পোশাক শিল্পের কেন্দ্রভূমি হিসেবে পরিচিত সুরাটের বিশাল টেক্সটাইল শিল্প পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাবে সৃষ্ট এলপিজি গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। রান্নার গ্যাসের অভাবে হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক শহর ছেড়ে চলে যেতে শুরু করায় ভারতের এই গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাত গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

সুরাটের টেক্সটাইল কারখানাগুলোর প্রাণশক্তি হলো উত্তর প্রদেশ, বিহার ও ওডিশা থেকে আসা লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক। বিগত কয়েক দিন ধরে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকটের কারণে এই শ্রমিকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। রান্নার গ্যাসের অভাবে অনাহারে থাকা শ্রমিকেরা দল বেঁধে সুরাটের উধনা রেলস্টেশনে জড়ো হচ্ছেন তাদের নিজ গ্রামে ফিরে যাওয়ার জন্য।

‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, শ্রমিকের অভাবে অনেক কারখানা ইতিমধ্যে সপ্তাহে এক বা দুই দিন উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক ছোট ও মাঝারি শিল্প ইউনিট সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। টেক্সটাইল ব্যবসায়ীদের মতে, শ্রমিকদের এই গণহারে শহর ত্যাগ অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাজারে ভারতের কাপড়ের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।

সুরাটের শ্রমিক কলোনিগুলোতে রান্নার গ্যাসের জন্য হাহাকার চলছে। ১৫ দিন ধরে লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। এই সুযোগে কালোবাজারে প্রতি কেজি এলপিজি ৫০০ রুপি পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। পাঁচ কেজি ওজনের ছোট সিলিন্ডার, যা সাধারণত ৫০০ রুপিতে পাওয়া যেত, এখন তা আড়াই হাজার রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। সীমা দেবী নামে এক নারী শ্রমিক ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে জানান, ‘সাত দিন আগে আমাদের গ্যাস শেষ হয়ে গেছে। কাঠের চুলায় রান্না করার অনুমতি নেই। জমানো টাকাও শেষ হয়ে আসছে, তাই সন্তানদের নিয়ে গ্রামে ফিরে যাচ্ছি।’ অনেক শ্রমিকই জানিয়েছেন, কাজ থাকা সত্ত্বেও কেবল খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার জন্য তারা শহর ছাড়ছেন।

ভারতের মোট এলপিজি আমদানির সিংহভাগ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকা এবং পারস্য উপসাগরে অস্থিরতার কারণে এলপিজি সরবরাহ ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ভারত সরকার বিকল্প ব্যবস্থা করার চেষ্টা করলেও সমুদ্রপথে এলপিজি পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় এই সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। টেক্সটাইল বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সুরাট থেকে শ্রমিকদের এই গণপ্রস্থান দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজার এবং রপ্তানি—উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে সামনে উৎসবের মৌসুম থাকায় কাপড়ের চাহিদা বাড়বে, যা পূরণে বড় ধরণের প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হবে।