যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহ জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। শীতকাল শেষ না হতেই এমন চরম তাপমাত্রা দেখা দেওয়ায় এটি জলবায়ু পরিবর্তনের একটি ভয়াবহ ইঙ্গিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ৫০০ বছরে একবার ঘটে এমন ঘটনা প্রায় নিশ্চিতভাবেই মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফল।
গত সপ্তাহজুড়ে এই অঞ্চলের বিভিন্ন শহরে তাপমাত্রা পূর্বের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে এবং সপ্তাহের শেষেও এই ধারা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের শহরগুলো থেকে শুরু করে এই তাপপ্রবাহ ধীরে ধীরে পূর্ব দিকেও ছড়িয়ে পড়ছে।
ক্যালিফোর্নিয়া-অ্যারিজোনা সীমান্তসংলগ্ন মরু এলাকায় চারটি স্থানে শুক্রবার তাপমাত্রা ৪৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে একটি নতুন জাতীয় রেকর্ড। এই স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যারিজোনার ইউমা শহরের কাছে মার্টিনেজ লেক এবং ক্যালিফোর্নিয়ার উইন্টারহেভেন ও ওগিলবি এলাকা। এছাড়াও, অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে শুরু করে আইডাহো পর্যন্ত ৬৫টি শহরে মার্চের নতুন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে।
এমনকি সাধারণত ঠান্ডা ও কুয়াশাচ্ছন্ন সান ফ্রান্সিসকোতেও তাপমাত্রা ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠে ঐতিহাসিক মার্চ রেকর্ড স্পর্শ করেছে। কলোরাডোতে স্কিয়াররা খালি গায়ে স্কি করার মতো অস্বাভাবিক দৃশ্যও দেখা গেছে। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় চরম তাপ সতর্কতা জারি করেছে, যার মধ্যে লস অ্যাঞ্জেলেস, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলীয় অঞ্চল এবং লাস ভেগাসও অন্তর্ভুক্ত।
বিশ্বের জলবায়ু বিজ্ঞানীদের সংগঠন ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’ তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন না হলে বছরের এই সময়ে এমন তাপপ্রবাহ প্রায় অসম্ভব। তারা আরও উল্লেখ করেছে যে, তাপমাত্রা বাড়ার প্রবণতা থাকা সত্ত্বেও, এই ধরনের ঘটনা এতটাই বিরল যে প্রায় ৫০০ বছরে একবার ঘটার কথা।
রিপোর্টারের নাম 






















