ঢাকা ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার জেরে ইরাক থেকে সাময়িকভাবে গুটিয়ে নেওয়া হলো ন্যাটোর মিশন

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট চরম আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে ইরাক থেকে নিজেদের প্রায় সব কর্মীকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নিয়েছে সামরিক জোট ন্যাটো। ইরাকের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা দপ্তরের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এই প্রত্যাহার কার্যকর থাকবে এবং পরবর্তীতে ন্যাটোর কর্মীরা আবারও ইরাকে ফিরবেন।

বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের কাছে অবস্থিত কয়েকশ কর্মী নিয়ে গঠিত এই ন্যাটো মিশনটি সম্প্রতি বারবার হামলার শিকার হচ্ছিল। বিশেষ করে ইরান অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার সূত্রপাতের পর থেকে এই মিশন লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এমন পরিস্থিতিতে একটি ছোট দল ছাড়া বাকি সব ইউনিটকে ইরাক থেকে সরিয়ে ইতালির নেপলসে ন্যাটোর কমান্ড সেন্টারে নিরাপদে স্থানান্তর করা হয়েছে।

কর্মীদের নিরাপদ স্থানান্তরের জন্য ইরাক এবং মিত্র দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ন্যাটো। ন্যাটোর ইউরোপের সুপ্রিম অ্যালাইড কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেউইচ এক বিবৃতিতে মিশন কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আমি ন্যাটো মিশন ইরাকের সেই নিবেদিতপ্রাণ পুরুষ ও নারীদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা এই পুরো সময়জুড়ে তাদের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। তারা প্রকৃত পেশাদার।” জোটটি আরও নিশ্চিত করেছে যে, ন্যাটো মিশন ইরাকের শেষ কর্মীরাও দেশ ত্যাগ করেছেন এবং এখন থেকে নেপলস থেকেই তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

ন্যাটোর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ন্যাটো মিশন ইরাক’ মূলত একটি অ-যুদ্ধকালীন (নন-কম্ব্যাট) মিশন ছিল। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ইরাককে একটি টেকসই ও কার্যকর নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পরামর্শ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করা। ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীকে তাদের দেশকে স্থিতিশীল করতে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সক্ষম করে তুলতে এবং আইএসআইএল-এর পুনরুত্থান রোধে প্রস্তুত করাই ছিল এই মিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান ও রাশিয়ার তেল রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ছাড় আর বাড়বে না

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার জেরে ইরাক থেকে সাময়িকভাবে গুটিয়ে নেওয়া হলো ন্যাটোর মিশন

আপডেট সময় : ০৪:৩১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট চরম আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে ইরাক থেকে নিজেদের প্রায় সব কর্মীকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নিয়েছে সামরিক জোট ন্যাটো। ইরাকের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা দপ্তরের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এই প্রত্যাহার কার্যকর থাকবে এবং পরবর্তীতে ন্যাটোর কর্মীরা আবারও ইরাকে ফিরবেন।

বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের কাছে অবস্থিত কয়েকশ কর্মী নিয়ে গঠিত এই ন্যাটো মিশনটি সম্প্রতি বারবার হামলার শিকার হচ্ছিল। বিশেষ করে ইরান অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার সূত্রপাতের পর থেকে এই মিশন লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এমন পরিস্থিতিতে একটি ছোট দল ছাড়া বাকি সব ইউনিটকে ইরাক থেকে সরিয়ে ইতালির নেপলসে ন্যাটোর কমান্ড সেন্টারে নিরাপদে স্থানান্তর করা হয়েছে।

কর্মীদের নিরাপদ স্থানান্তরের জন্য ইরাক এবং মিত্র দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ন্যাটো। ন্যাটোর ইউরোপের সুপ্রিম অ্যালাইড কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেউইচ এক বিবৃতিতে মিশন কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আমি ন্যাটো মিশন ইরাকের সেই নিবেদিতপ্রাণ পুরুষ ও নারীদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা এই পুরো সময়জুড়ে তাদের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। তারা প্রকৃত পেশাদার।” জোটটি আরও নিশ্চিত করেছে যে, ন্যাটো মিশন ইরাকের শেষ কর্মীরাও দেশ ত্যাগ করেছেন এবং এখন থেকে নেপলস থেকেই তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

ন্যাটোর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ন্যাটো মিশন ইরাক’ মূলত একটি অ-যুদ্ধকালীন (নন-কম্ব্যাট) মিশন ছিল। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ইরাককে একটি টেকসই ও কার্যকর নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পরামর্শ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করা। ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীকে তাদের দেশকে স্থিতিশীল করতে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সক্ষম করে তুলতে এবং আইএসআইএল-এর পুনরুত্থান রোধে প্রস্তুত করাই ছিল এই মিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।