মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টার আশঙ্কায় দ্বীপটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংসের প্রস্তুতি নিয়েছিল ডেনমার্ক। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ডিআর-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের পরিস্থিতিতে গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত বিমানবন্দরগুলোর রানওয়ে উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যাতে মার্কিন বাহিনী সহজে সেখানে অবতরণ করতে না পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যেকোনো আকস্মিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় আহতদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত রক্তের মজুত রাখার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে বিবিসি এবং ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এর মাধ্যমে ইউরোপীয় একাধিক কর্মকর্তা এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। যদিও ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ডেনমার্ক উভয়ই ন্যাটোর সদস্য হলেও, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরে বিরাজ করছিল। ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে বারবার গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন, যা ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের নেতৃত্ব কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছিল।
ডিআর-এর প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোপেনহেগেন ইউরোপীয় মিত্রদের—বিশেষ করে ফ্রান্স ও জার্মানি—সমর্থন চেয়েছিল। একই সঙ্গে নর্ডিক দেশগুলোর অংশগ্রহণে একটি যৌথ সামরিক প্রস্তুতিও নেওয়া হয়। ৩ জানুয়ারি তারিখে পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়, যখন মার্কিন বাহিনী কারাকাসে এক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে। এরপর ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নতুন করে বক্তব্য দিলে ডেনমার্ক সম্ভাব্য সকল ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে তাদের প্রস্তুতি জোরদার করে।
পরবর্তীতে ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, নরওয়ে ও সুইডেনের একটি যৌথ সামরিক দল গ্রিনল্যান্ডে মোতায়েন করা হয়। এই কার্যক্রমকে প্রকাশ্যে সামরিক মহড়া হিসেবে দেখানো হলেও, প্রকৃতপক্ষে এটি সম্ভাব্য মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ডেনমার্কের গোপন প্রস্তুতি ছিল বলে প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়।
তবে শেষ পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বক্তব্য পরিস্থিতিকে শান্ত করে তোলে। সেখানে তিনি বলেন যে, তিনি বলপ্রয়োগ করতে চান না এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খুঁজতে আগ্রহী। তার এই অবস্থানের পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
রিপোর্টারের নাম 





















