মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে গোপনে সাধারণ নাগরিকদের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য (লোকেশন ডেটা) কিনছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সম্প্রতি সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির শুনানিতে সংস্থাটির পরিচালক কাশ প্যাটেল এ বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, যা দেশজুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
কাশ প্যাটেল শুনানিতে ডেমোক্র্যাট সিনেটর রন ওয়াইডেনের প্রশ্নের জবাবে জানান, তারা বাণিজ্যিকভাবে সহজলভ্য তথ্য আইনগত কাঠামোর মধ্যেই সংগ্রহ করেন। তার মতে, এটি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে সহায়ক। তবে এই স্বীকারোক্তি ২০২৩ সালে তৎকালীন এফবিআই পরিচালক ক্রিস্টোফার রে-এর দেওয়া বিবৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেখানে তিনি জানিয়েছিলেন যে এ ধরনের তথ্য কেনা বন্ধ রাখা হয়েছিল।
সিনেটর রন ওয়াইডেন এফবিআই-এর এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি মনে করেন, আদালতের ওয়ারেন্ট ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য কেনা নাগরিকদের মৌলিক অধিকারকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে বিশাল ডেটা বিশ্লেষণের সক্ষমতা থাকায় এই ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
বর্তমান আইনে টেলিকম কোম্পানির কাছ থেকে সরাসরি তথ্য নিতে হলে আদালতের অনুমতি প্রয়োজন হলেও, তথ্য কেনাবেচাকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ডেটা কেনার ক্ষেত্রে এমন বাধ্যবাধকতা নেই। এই আইনি ফাঁক বন্ধে নতুন আইন প্রণয়নের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
এ বিষয়ে রিপাবলিকান প্রতিনিধি ওয়ারেন ডেভিডসনও তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যাতে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য কিনতে না পারে, সে জন্য তিনি দ্বিদলীয় একটি বিল উত্থাপন করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ক যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক অধিকার ও নজরদারি নীতির মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
রিপোর্টারের নাম 






















