ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলি খামেনির সময়ে তার সিদ্ধান্তই ছিল চূড়ান্ত। তবে তার উত্তরসূরি আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ মুজতবা খামেনি একই ধরনের ক্ষমতা চর্চা করছেন না বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। গত মার্চে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মুজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি বা তার কোনো বক্তব্যও শোনা যায়নি।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তার বদলে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) যুদ্ধরত সেনাধিনায়ক এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই এখন নিরাপত্তা, যুদ্ধ ও কূটনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মূল সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। মাহমুদ আহমাদিনেজাদের সময়ে প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করা আবদুর রেজা দাভারি বলেন, ‘বোর্ডের পরিচালকের মতো মুজতবা দেশ পরিচালনা করছেন। বোর্ডের বাকি সদস্যদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনার ওপর তিনি প্রচণ্ডভাবে নির্ভর করছেন এবং তারাই সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত তৈরি করছেন। সামরিক জেনারেলরাই এ বোর্ড সদস্য।’
ইরানের বর্তমান ক্ষমতা কাঠামোর বিষয়ে তেহরানের সরকারের ছয় শীর্ষ কর্মকর্তা, দুই সাবেক কর্মকর্তা, আইআরজিসির দুই সদস্য, অভ্যন্তরীণ কাঠামোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক আলেম এবং আয়াতুল্লাহ খামেনির পরিচিত তিন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে তথ্য দিয়েছেন। এছাড়া আইআরজিসির নয়জন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিও নেতৃত্বের কাঠামো নিয়ে কথা বলেছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ আগ্রাসনে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নিহত হওয়ার পর ইরানের জ্যেষ্ঠ আলেমদের কাউন্সিল নতুন রাহবার (ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা) হিসেবে আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনিকে নির্বাচিত করে। হামলায় বাবা-মাসহ নিজের স্ত্রী ও সন্তানকে হারান মুজতবা খামেনি এবং নিজেও আহত হন। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিনি গোপনে রয়েছেন। তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করা অত্যন্ত কঠিন ও সীমাবদ্ধ। জানা যায়, ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় আহত হওয়ার পর তার চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও মেডিকেল স্টাফরাই তার সঙ্গে রয়েছেন। আইআরজিসির জ্যেষ্ঠ অধিনায়ক ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারাও তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান না, যাতে করে তাদের অনুসরণ করে মুজতবা খামেনির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব না হয়।
রিপোর্টারের নাম 
























