বিশ্বের ছয়টি প্রভাবশালী দেশ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে যে, তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে ‘সহযোগিতা করতে প্রস্তুত’। তবে ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্স স্পষ্ট করেছে যে, যেকোনো উদ্যোগ কেবল যুদ্ধবিরতির পরেই কার্যকর হবে।
ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও নেদারল্যান্ডস এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে তারা যথেষ্ট প্রচেষ্টা চালাতে আগ্রহী। বিবৃতিতে দেশগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানায় এবং এই সংকট মোকাবিলায় প্রাথমিক পরিকল্পনা শুরু করা দেশগুলোর উদ্যোগকে স্বাগত জানায়।
তবে ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্স আলাদাভাবে জানিয়েছে যে, তারা এখনই কোনো সামরিক সহায়তার কথা বলছে না, বরং যুদ্ধবিরতির পর সম্ভাব্য বহুপাক্ষিক উদ্যোগের কথাই ভাবছে।
এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যখন ইরানের অবরোধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথটি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বোমা হামলা শুরু করলে যুদ্ধের সূচনা হয়। এর জবাবে তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা হামলা চালায়। এ পর্যন্ত ১০টি তেলবাহী ট্যাংকারসহ ২৩টি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)’র তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমে ৩ হাজার ২০০ জাহাজে থাকা প্রায় ২০ হাজার নাবিক এখন আটকা পড়েছে।
মিত্র দেশগুলো যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ‘ক্রমবর্ধমান সংঘাত নিয়ে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।’ তারা ইরানকে অবিলম্বে হুমকি প্রদান, মাইন স্থাপন, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং বাণিজ্যিক নৌ চলাচল ব্যাহত করার সব ধরনের চেষ্টা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘নৌ চলাচলের স্বাধীনতা আন্তর্জাতিক আইনের একটি মৌলিক নীতি, যা জাতিসংঘের সমুদ্র আইন কনভেনশনেও অন্তর্ভুক্ত।’ এতে সতর্ক করে বলা হয়, ইরানের এসব কর্মকাণ্ডের প্রভাব বিশ্বজুড়ে পড়বে, বিশেষ করে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর।
রিপোর্টারের নাম 






















