ঢাকা ১০:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ঈদের আনন্দ ম্লান: যুদ্ধ ও আকাশছোঁয়া দামের প্রভাব

চলমান যুদ্ধ এবং লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ এবার অনেকটাই ম্লান। লেবাননের বৈরুত থেকে শুরু করে দুবাই, মানামা এবং জেরুজালেম পর্যন্ত, লাখ লাখ মুসলমানের মনে ঈদের খুশির চেয়ে উদ্বেগই বেশি। লেবাননের আজিজা আহমেদ নামের একজন বাসিন্দা জানান, যুদ্ধ ও আকাশছোঁয়া দামের চাপে এবারের ঈদে তার কোনো বিশেষ পরিকল্পনা নেই, নেই সন্তানদের জন্য নতুন উপহার বা পারিবারিক খাবারের আয়োজন।

৪৯ বছর বয়সী আজিজা তার স্বামী ও তিন ছেলেকে নিয়ে একটি ছোট অ্যাপার্টমেন্টে কোনোমতে দিন কাটাচ্ছেন, যেখানে বর্তমানে ১২ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ধনী মানুষের জন্য হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন, কিন্তু আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য ঈদের আনন্দ নেই। আমাদের কাছে টাকা নেই, আর বাস্তুচ্যুত মানুষগুলোও ঘরে ফিরতে পারছে না।’ যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই লেবাননে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট চলছিল, যা এখন নিত্যপণ্যের আকাশছোঁয়া দামের কারণে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ঈদের আগের দিন আজিজা তার বাড়ির সামনে একটি ছোট পিঠার দোকান খুলেছেন, যা তার স্বামীর সামান্য আয়ের পরিপূরক। তিনি বলেন, ‘এসবের একটিও আমরা খাব না, সব বিক্রির জন্য।’

আজিজার মেয়ে ১১ বছর বয়সী ইয়াসমিন, যিনি পরিবারের সাথে পিঠা তৈরিতে সাহায্য করছেন, বলেন, ‘আমরা এবার খেলতে বাইরেও যাব না। সবাই খুব আতঙ্কে আছে। ইসরাইল হামলা চালাচ্ছে, তাই আমরা ঘরেই থাকব।’ মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোতেও হামলার আতঙ্ক ঈদের আনন্দকে বিষণ্ণ করে তুলেছে। এই দেশগুলো, যা এতদিন নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে পরিচিত ছিল, এখন তেহরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরুর পর উপসাগরীয় দেশগুলোতে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন।

নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কুয়েত কর্তৃপক্ষ ঈদের সময় নাটক, কনসার্ট ও বিয়ের অনুষ্ঠান সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে। কুয়েতে কর্মরত ৪১ বছর বয়সী মিশরীয় নাগরিক আলী ইব্রাহিম জানান, ঈদের আগে নতুন পোশাক কেনার জন্য দোকানে আগের মতো ভিড় নেই। কাতারও যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সব ধরনের জনসমাবেশ স্থগিত রেখেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে খোলা ময়দানের পরিবর্তে মসজিদের ভেতরে ঈদের নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুবাইয়ে তিন দশক ধরে বসবাসরত ভারতীয় সমাজকর্মী জুহি ইয়াসমিন খান বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি সত্যিই উদ্বেগের। এই উৎসবের দিনেও আমরা প্রার্থনা করছি যেন সবকিছু দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘গোপন রাজনীতি ছেড়ে শিবিরকে প্রকাশ্যে আসা উচিত’: ডাকসু সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা

মধ্যপ্রাচ্যে ঈদের আনন্দ ম্লান: যুদ্ধ ও আকাশছোঁয়া দামের প্রভাব

আপডেট সময় : ০৩:৩৬:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

চলমান যুদ্ধ এবং লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ এবার অনেকটাই ম্লান। লেবাননের বৈরুত থেকে শুরু করে দুবাই, মানামা এবং জেরুজালেম পর্যন্ত, লাখ লাখ মুসলমানের মনে ঈদের খুশির চেয়ে উদ্বেগই বেশি। লেবাননের আজিজা আহমেদ নামের একজন বাসিন্দা জানান, যুদ্ধ ও আকাশছোঁয়া দামের চাপে এবারের ঈদে তার কোনো বিশেষ পরিকল্পনা নেই, নেই সন্তানদের জন্য নতুন উপহার বা পারিবারিক খাবারের আয়োজন।

৪৯ বছর বয়সী আজিজা তার স্বামী ও তিন ছেলেকে নিয়ে একটি ছোট অ্যাপার্টমেন্টে কোনোমতে দিন কাটাচ্ছেন, যেখানে বর্তমানে ১২ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ধনী মানুষের জন্য হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন, কিন্তু আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য ঈদের আনন্দ নেই। আমাদের কাছে টাকা নেই, আর বাস্তুচ্যুত মানুষগুলোও ঘরে ফিরতে পারছে না।’ যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই লেবাননে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট চলছিল, যা এখন নিত্যপণ্যের আকাশছোঁয়া দামের কারণে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ঈদের আগের দিন আজিজা তার বাড়ির সামনে একটি ছোট পিঠার দোকান খুলেছেন, যা তার স্বামীর সামান্য আয়ের পরিপূরক। তিনি বলেন, ‘এসবের একটিও আমরা খাব না, সব বিক্রির জন্য।’

আজিজার মেয়ে ১১ বছর বয়সী ইয়াসমিন, যিনি পরিবারের সাথে পিঠা তৈরিতে সাহায্য করছেন, বলেন, ‘আমরা এবার খেলতে বাইরেও যাব না। সবাই খুব আতঙ্কে আছে। ইসরাইল হামলা চালাচ্ছে, তাই আমরা ঘরেই থাকব।’ মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোতেও হামলার আতঙ্ক ঈদের আনন্দকে বিষণ্ণ করে তুলেছে। এই দেশগুলো, যা এতদিন নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে পরিচিত ছিল, এখন তেহরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরুর পর উপসাগরীয় দেশগুলোতে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন।

নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কুয়েত কর্তৃপক্ষ ঈদের সময় নাটক, কনসার্ট ও বিয়ের অনুষ্ঠান সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে। কুয়েতে কর্মরত ৪১ বছর বয়সী মিশরীয় নাগরিক আলী ইব্রাহিম জানান, ঈদের আগে নতুন পোশাক কেনার জন্য দোকানে আগের মতো ভিড় নেই। কাতারও যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সব ধরনের জনসমাবেশ স্থগিত রেখেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে খোলা ময়দানের পরিবর্তে মসজিদের ভেতরে ঈদের নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুবাইয়ে তিন দশক ধরে বসবাসরত ভারতীয় সমাজকর্মী জুহি ইয়াসমিন খান বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি সত্যিই উদ্বেগের। এই উৎসবের দিনেও আমরা প্রার্থনা করছি যেন সবকিছু দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে।’