নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক কোম্পানীগঞ্জের সেতুটি বর্তমানে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। মুসলিম শাসন আমলে নির্মিত এই এক খিলানবিশিষ্ট সেতুটি সংরক্ষণের অভাবে এবং অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।
সোনারগাঁয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটি সম্প্রতি সেতুটি সংরক্ষণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছে। জানা গেছে, মুসলিম শাসন আমলের রাজধানী সোনারগাঁ থেকে সিন্ধু নদ পর্যন্ত নির্মিত গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোডের অংশ হিসেবে এই সেতুটি পানাম নগরের কাছে কোম্পানীগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত। এটি ছোট লাল ইট এবং চুন-সুরকি ব্যবহার করে নির্মিত হয়েছিল। বর্তমানে সেতুটি পুরো উপজেলার মানুষের চলাচলের প্রধান পথ হওয়ায় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভারী যানবাহনের চলাচল সেতুটির নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
ধারণা করা হয়, মোগল আমলে এই সেতুর পাশে ব্যবসায়ীরা নদীপথে মালামাল আমদানি-রপ্তানি করত, যে কারণে এটির নামকরণ কোম্পানিকা ব্রিজ হতে পারে। এটি মোগল আমলের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য নিদর্শন। স্থানীয় ইতিহাসবিদ, সংস্কৃতিসেবী এবং সচেতন নাগরিকরা সেতুটির দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এটি কেবল সোনারগাঁ নয়, সমগ্র বাংলার ঐতিহ্যের একটি অমূল্য অংশ। অবিলম্বে সংস্কার না করা হলে এই প্রাচীন স্থাপত্যটি হারিয়ে যেতে পারে। সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটি সেতুটি রক্ষার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মাজহারুল ইসলাম মানিক সেতুটির জরুরি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন। সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক কবি শাহেদ কায়েস বলেছেন, ‘কোম্পানিকা সেতু একটি প্রাচীন প্রত্নসম্পদ যা বর্তমানে অবহেলা ও অযত্নে ধ্বংসের মুখে। অবিলম্বে এর সংস্কার ও সুরক্ষা প্রয়োজন।’
রিপোর্টারের নাম 






















