ঢাকা ০২:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

নরসিংদীতে হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ: ৩০ পরিবার পলাতক

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরমধুয়া ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামে একটি হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এই তাণ্ডবের জেরে গ্রামের প্রায় ৩০টি পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৮ ফেব্রুয়ারি, যখন পারিবারিক কলহের জেরে মঙ্গল মিয়ার ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪৮) খুন হন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী লাভলী বেগম বাদী হয়ে ১৮ জনকে আসামি করে রায়পুরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর থেকেই বাদীপক্ষের লোকজন, বিশেষ করে আমান উল্লাহ আমানের নেতৃত্বে আসামিদের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই তাণ্ডবের অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত ছয়টি বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বাদীপক্ষের এই অব্যাহত নির্যাতনের কারণে গাজীপুর গ্রামের প্রায় ৩০টি পরিবার এখন গৃহহীন অবস্থায় রয়েছে।

ভুক্তভোগী গ্রামবাসীদের অভিযোগ, তারা রফিকুল ইসলাম হত্যায় জড়িত প্রকৃত দোষীদের বিচার চান। কিন্তু নিরীহ সাধারণ মানুষ বাদীপক্ষের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। তাদের অভিযোগ, হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে লুটপাট চালাচ্ছে, গরু-বাছুর, নগদ টাকা এবং স্বর্ণালংকার পর্যন্ত নিয়ে যাচ্ছে। তারা প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার এবং শান্তিতে বসবাস করার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আকুতি জানিয়েছেন।

চরমধুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহসান সিকদার জানান, রাতের অন্ধকারে কালো মুখোশ পরা একদল ব্যক্তি অস্ত্র দেখিয়ে বিভিন্ন বাড়িতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০টি বাড়ির মালামাল সম্পূর্ণ লুট হয়ে গেছে এবং পাঁচ-ছয়টি বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সুজন চন্দ্র সরকার জানিয়েছেন, হত্যা মামলায় ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এই হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃষি বিপ্লবে জিয়াউর রহমানের অবদান অবিস্মরণীয়: নরসিংদীতে খাল খনন উদ্বোধনে ড. মঈন খান

নরসিংদীতে হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ: ৩০ পরিবার পলাতক

আপডেট সময় : ১২:১৯:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরমধুয়া ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামে একটি হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এই তাণ্ডবের জেরে গ্রামের প্রায় ৩০টি পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৮ ফেব্রুয়ারি, যখন পারিবারিক কলহের জেরে মঙ্গল মিয়ার ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪৮) খুন হন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী লাভলী বেগম বাদী হয়ে ১৮ জনকে আসামি করে রায়পুরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর থেকেই বাদীপক্ষের লোকজন, বিশেষ করে আমান উল্লাহ আমানের নেতৃত্বে আসামিদের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই তাণ্ডবের অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত ছয়টি বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বাদীপক্ষের এই অব্যাহত নির্যাতনের কারণে গাজীপুর গ্রামের প্রায় ৩০টি পরিবার এখন গৃহহীন অবস্থায় রয়েছে।

ভুক্তভোগী গ্রামবাসীদের অভিযোগ, তারা রফিকুল ইসলাম হত্যায় জড়িত প্রকৃত দোষীদের বিচার চান। কিন্তু নিরীহ সাধারণ মানুষ বাদীপক্ষের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। তাদের অভিযোগ, হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে লুটপাট চালাচ্ছে, গরু-বাছুর, নগদ টাকা এবং স্বর্ণালংকার পর্যন্ত নিয়ে যাচ্ছে। তারা প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার এবং শান্তিতে বসবাস করার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আকুতি জানিয়েছেন।

চরমধুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহসান সিকদার জানান, রাতের অন্ধকারে কালো মুখোশ পরা একদল ব্যক্তি অস্ত্র দেখিয়ে বিভিন্ন বাড়িতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০টি বাড়ির মালামাল সম্পূর্ণ লুট হয়ে গেছে এবং পাঁচ-ছয়টি বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সুজন চন্দ্র সরকার জানিয়েছেন, হত্যা মামলায় ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এই হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।