ইরান যুদ্ধের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কায় আগাম সতর্কতা হিসেবে ভারতের কাছে বাড়তি ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের এই অনুরোধটি বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দেখছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) নয়া দিল্লিতে আয়োজিত এক নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
ব্রিফিংয়ে ভারতের ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির আলোকে চলমান যুদ্ধ-সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ছোট দেশগুলোকে সহায়তার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়সওয়াল বলেন, ভারত পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের একটি বড় রপ্তানিকারক দেশ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি চাহিদা পূরণে ভারত সবসময়ই আন্তরিক। তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে বাড়তি ডিজেল সরবরাহের একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ভারতের কাছে এসেছে। তবে এই অনুরোধ রক্ষার ক্ষেত্রে ভারতের নিজস্ব পরিশোধন সক্ষমতা, অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের প্রাপ্যতার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।
রণধীর জয়সওয়াল ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার জনমুখী ও উন্নয়নমূলক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের সহযোগিতা বিদ্যমান। ২০০৭ সাল থেকে নৌপথ, রেলপথ এবং ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ২০১৭ সালে নুমালিগড় রিফাইনারি এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে এই সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়েছে। কেবল বাংলাদেশই নয়, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের মতো প্রতিবেশী দেশগুলো থেকেও ভারত অনুরূপ অনুরোধ পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
একই সংবাদ সম্মেলনে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও সহযোগী আলমগীর হোসেনকে পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার করার বিষয়ে ভারতের বক্তব্য জানতে চান উপস্থিত সাংবাদিকরা। তবে বিষয়টি বর্তমানে পুলিশি তদন্তাধীন থাকায় এ নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র। তিনি জানান, আইনি ও তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে কিছু বলা উচিত হবে না।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠায় বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি মজুদ ঠিক রাখতে এবং সম্ভাব্য লোডশেডিং বা সংকট এড়াতে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে দ্রুত ডিজেল আমদানির পরিমাণ বাড়ানোকে একটি কার্যকর কৌশল হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ সরকার।
রিপোর্টারের নাম 





















